সোমবার, ১৩ আগস্ট, ২০১৮

ফিতরাহ ও আল্লাহ অস্তিত্ব

                                                                "ফিতরাহ ও আল্লাহ অস্তিত্ব"



আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের সৃষ্টি করেছেন।তাই তার অস্তিত্বের বিষয় আমরা বুঝতে পেরেছে যখন আমরা সম্পূর্ণ অস্তিত্ব লাভ করেছ।আসলে প্রতিটি শিশুই জন্মগ্রহণ করে থাকে এই বিশ্বাস নিয়ে যে এই মহাবিশ্বের একজন সৃষ্টিকর্তা আছে।
মহানবি মুহাম্মাদ(সা)বলেছেনঃ
" প্রতিটি নবজাতকই জন্মলাভ করে ফিতরাতের উপর। এরপর তা মা-বাপ তাকে ইয়াহুদী বা খ্রিস্টান বা অগ্নিপূজারী রূপে গড়ে তোলে। যেমন, চতুষ্পদ পশু নিখুঁত বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাদের মধ্যে কোন কানকাটা দেখতে পাও? (বরং মানুষেরাই তার নাক কান কেটে দিয়ে বা ছিদ্র করে তাকে বিকৃত করে থাকে। অনুরূপ ইসলামের ফিতরাতে ভূমিষ্ট সন্তানকে মা-বাপ তাদের শিক্ষা-দীক্ষা ও জীবন ধারায় প্রবাহিত করে ভ্রান্ত ধর্মী বানিয়ে ফেলে) পরে আবূ হুরায়রা (রাঃ) তিলাওয়াত করলেন ‏فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا‏ আল্লাহর দেওয়া ফিতরাতের অনুসরণ কর যে ফিতরাতের উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। (সূরা রূম: ৩০)"(1)
তাই তার অস্তিত্বের নির্দশন খুঁজতে হবে না কোনো ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কপের নিচে বা হতে হবে না কোনো বড় মাপের বিজ্ঞানী বা দার্শনিক বা এর জন্য কোনো PHD Degree 'র    দরকার নেই। কারণ সেই তা জন্মগতভাবে তা লাভ করে থাকে।
এখন দেখা যাক, আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণাতে এর সমর্থনে পরীক্ষালব্ধ প্রমাণ আছে কিনা? অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভলোপমেন্টাল সাইকোলজিস্ট ড. জাস্টিন এল. ব্যারেট শিশুদের উপর গবেষণা করেন। এ ব্যাপারে বেশ কিছু বইও লিখেছেন তিনি। বইগুলোর মাঝে একটি হল “বর্ন বিলিভার্‌স”, যেখানে তিনি সুস্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন, “… শিশুরা জন্মগতভাবে বিশ্বাসী, যাকে আমি বলি ‘সহজাত ধর্ম’ …” (2)
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী (নাস্তিক) ড. অলিভেরা প্যাট্রোভিচ Peer Reviewed জার্নালে তাঁর গবেষণার ফল জানান,
“কিছু ধর্মীয় বিশ্বাস যে সার্বজনীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে (যেমন কোন বিমূর্ত সত্তাকে বিশ্বজগতের স্রষ্টা হিসেবে মৌলিক বিশ্বাস), এর (স্বপক্ষে) শক্তিশালী প্রমাণ ধর্মগ্রন্থের বাণীর চেয়ে বরং (বৈজ্ঞানিক) গবেষণা থেকেই বেশি বেরিয়ে আসছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।” (3)
ইনি হলেন একজন বিজ্ঞানী। তিনি নিজের বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল দিয়ে প্রমাণ দেখিয়েছেন যে, মানুষ সহজাত ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অদ্বিতীয়-সর্বোচ্চ এক বুদ্ধিমত্তায় বিশ্বাস গড়ে তোলে। তিনি আরো বলেছেন যে, ধর্মীয় গ্রন্থের চেয়ে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষালব্ধ প্রমাণ দ্বারাই তা শক্তিশালীভাবে সমর্থিত হচ্ছে। কিন্তু তিনি যদি ইসলামি ধর্মমত অধ্যয়ন করতেন তবে অবশ্যই জানতে পারতেন যে, ফিতরাহ্‌-এর এই ধারণা তথা আল্লাহ্‌র অস্তিত্বের প্রতি সহজাত বিশ্বাস ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। ইসলামি গ্রন্থগুলোর পাতার পর পাতা জুড়ে এর উপস্থিতি। একে অস্বীকার করার কোনই উপায় নেই। এর শেকড় ইসলামি ধর্মমতে প্রোথিত। এদিকে ইয়েল ইউনিভার্সিটির আরেক (নাস্তিক) গবেষক পল ব্লুম Peer Reviewed গবেষণাপত্রে প্রমাণ দেখিয়েছেন ঐশ্বরিক সত্ত্বার পাশাপাশি মানুষের যে মন বলে কিছুর অস্তিত্ব আছে এ ধারণাও সহজাতভাবেই শিশুদের মাঝে উদ্ভূত হয়। (4)
সাম্প্রতিক কালে আরো অনেক সেক্যুলার গবেষকদের গবেষণায় প্রতীয়মান হচ্ছে, ধর্মবিশ্বাস প্রাথমিকভাবে ব্যক্তির ভেতর থেকেই উৎপত্তি হয়… যা মৌলিকভাবে মানব মনের এক অংশ…। (5) তাদের সংগৃহীত তথ্য থেকে নতুন তত্ত্ব বেরিয়ে আসছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি তত্ত্ব হল, Strong Naturalness Theory যা পূর্বের প্রভাবশালী Anthropomorphism Theory কে ছুঁড়ে ফেলেছে। Strong Naturalness Theory এর বক্তব্য হল, ধর্মবিশ্বাসের উদ্ভব স্বয়ংক্রিয় ও অভ্যন্তরীণ এবং তা প্রকৃতপক্ষে স্বত:স্ফূর্তভাবে শিশুদের মাঝে উদ্ভূত হয়…। (6)
কথা এখানেই শেষ নয়। এইতো কিছু দিন আগেই প্রায় দুই মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন গবেষকের নেতৃত্বে পরিচালিত তিন বছরব্যাপী এক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পে ৫৭ জন গবেষক ২০টি দেশে ৪০টি ভিন্ন ভিন্ন গবেষণা পরিচালনা করেন। তাঁদের এই গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল স্রষ্টা ও পরকালের ধারণা কি পিতামাতা বা সমাজ কর্তৃক চাপিয়ে দেওয়ার ফল নাকি মানব প্রকৃতির মৌলিক অভিব্যক্তি তা খুঁজে বের করা। দীর্ঘ গবেষণার পর তাঁরা সিদ্ধান্তে উপনীত হন, স্রষ্টার পাশাপাশি মৃত্যু পরবর্তী জীবনে বিশ্বাসও মানুষের সহজাত প্রবণতার অন্তর্গত। (7)
তাহলে আমরা কী বুঝলাম? এখন পর্যন্ত আমার বক্তব্যের সারমর্ম হচ্ছে, আমাদের আল্লাহ্‌র অস্তিত্বে বিশ্বাস করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল এই বিশ্বাস ফিতরাহ্‌-এর অংশ, এই বিশ্বাস সহজাত-প্রাকৃতিক। বিশ্বজগতকে প্রকৃতই অস্তিত্বশীল বলে বিশ্বাস করা যেমন যৌক্তিক, আল্লাহর অস্তিত্বে আমাদের এই বিশ্বাসও সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

রেফারেন্স:
(1) বুখারী, আস-সহীহ, জানাযা অধ্যায়; খণ্ড ০২, হাদীছ ১২৭৫-১২৭৬ (ঢাকা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ৫ম সংস্করণ এপ্রিল ২০০৪)
(2) Dr. Justine L. Barrett, Born Believers: The Science of Children’s Religious Belief; p. 136 (Simon and Schuster, Mar 20, 2012)
(3) Olivera Petrovich, Key psychological issues in the study of religion; Psihologija (2007), Volume 40, Issue 3, p. 360; Available at: https://doi.org/10.2298/PSI0703351P
(4) Paul Bloom, Religion is natural (2007), Journal of Developmental Science 10:1, p. 147-151. DOI: 10.1111/j.1467-7687.2007.00577.x
(5) Patrick McNamara Ph.D., Wesley J. Wildman (etd.), Science and the World’s Religions; vol. 02 (Persons and Groups), p. 206, 209 (Publisher ABC-CLIO , July 19, 2012)
(6) প্রাগুক্ত, p. 210; এ বিষয়ে স্বল্প দৈর্ঘ্যের প্রামাণ্য ভিডিও দেখুন: http://callingtotheone com/is-believe-in-god-natural

(7) University of Oxford. “Humans ‘predisposed’ to believe in gods and the afterlife.” ScienceDaily, 14 July 2011. Available at: http://www. sciencedaily.com/releases/2011/07/110714103828.htm

বিভিন্ন ধর্মে শিশু বিবাহ?

বিভিন্ন ধর্মে শিশু বিবাহ?
 
ইসলাম ধর্মকে যখন বিদ্বেষীরা আক্রমন করতে যায়, তখন যে যে টপিকগুলো তারা সামনে আনে, তার মধ্যে নবিজী সঃ ও আয়শা রাঃ এর বিবাহ অন্যতম। কারন তথ্যমতে আয়শা রাঃ ছিলেন বয়সে অত্যন্ত কম। তাই বিদ্বেষিরা এই ঘটনার সাথে বাল্য বিবাহ, পেডোফিল ইত্যাদি শব্দগুলো জুড়ে দিতে চায়। যাই হোক, নবিজির ও আয়শা রাঃ এর বিবাহ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষন ও বিদ্বেষীদের জবাব জানার জন্য নিম্নোক্ত লেখাটি পড়ুন, এটি চমৎকার একটি লেখা,
https://www.facebook.com/notes/shihab-ahmed-tuhin/%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%B2-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%83-%E0%A6%93-%E0%A6%86%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%BE-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%83-%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%AF%E0%A6%A4-%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B0/1202195303148076
কিন্তু যেসব ধর্মের লোকেরা ইসলামের শীশু বিয়ের অভিযোগগুলি করতছে তারা মূলত নিজেরাই নিজেদের ধর্মের ব্যাপারে অজ্ঞ। তাই তাদেরকে চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিতেই এই লেখা।
প্রথমেই আনি হিন্দু ধর্মের কথা।
ফেসবুকিয় দাদারা নবিজির বিবাহ নিয়ে অত্যন্ত বিকৃত প্রপাগন্ডা ছড়িয়ে বেরায়। তারা হরহামেশাই আয়শা রাঃ এর বিয়ে নিয়ে মুসলিমদের খোটা দেয়। তাই আসুন দেখা যাক, তাদের অবতার, ভগবান ও দেবতারা কি করেছেন,
শ্রী রাম বিয়ে করেন মাত্র ৬ বছর বয়স্ক সীতাকে।
হ্যা ঠিকই শুনেছেন। রাম হিঁদুদের কারো কাছে ভগবান, কারো কাছে মহাপুরুষ। আর সীতা হচ্ছে হিঁদুদের নিকট সবথেকে আদর্শ নারী চরিত্র। কিন্তু হিন্দুরা অনেকেই জানে না কিংবা যারা জানে তারা জানতে দেয় না যে সীতার বয়স ছিল মাত্র ৬ বছর যখন রাম তাকে বিবাহ করে। ৬ বছর বয়স থেকেই সে রামের সাথে সংসার শুরু করে রাজা দশরথের প্রাসাদে।
রেফারেন্স, বাল্মিকি রামায়ন, অরন্য খন্ড, ৩.৪৭.৩-১০,
বলা আছে,
সীতার বয়স ছিল ১৮ বছর যখন সে ভগবান রামের সহিত বনবাসে গমন করে। বনবাসের পুর্বে তিনি স্বামী রাম সহিত ১২ বছর কাটিয়েছেন রাজা দশরথের প্রাসাদে। এখানে যদি আমরা সিম্পল অংক করি, তবে দেখতে পাব বিবাহের সময় সীতার বয়স,
১৮-১২= ৬ বছর।
নীচের লিংক থেকে বিস্তারিত পড়ে ও অংক কষে নিজেরাই দেখুন।
http://www.valmikiramayan.net/utf8/aranya/aranya_contents.htm
রামের সাথে বিয়ের সময় সীতার বয়স ৬ বছর ছিল এটি স্পষ্টভাবে পুরানেও উল্লখে আছে।
রেফারেন্স, স্কন্দ পুরাণ ৩.২.৩০.৮-৯, বলা আছে,
রাম বিয়ে করেন রাজা মিথিলার ৬ বছর বয়সী সুন্দরী কন্যা, সীতাকে।
এবার হিন্দু দাদারা রামের ব্যপারে কি বলবে ? (নীচে স্ক্রীনশট)
Skanda Purana, Translated By: Sri Desiraju Hanumantha Rao
কৃষ্ণ বিয়ে করেন ৮ বছর বয়স্ক রুক্মনীকে।
হ্যা ঠিকই শুনেছেন। হিঁদুদের সর্বাধিক জনপ্রিয় অবতার ভগবান শ্রী কৃষ্ণ, যখন রুকমনীকে বিয়ে করেন তখন রুকমনীর বয়স ছিল মাত্র ৮ বছর।
রেফারেন্স, স্কন্দ পুরাণ, ৫.৩.১৪২.৮-৭৯,
Screenshot 1
Screenshot 2
আর সেই শিশু রুকমনীর সাথেই শ্রী কৃষ্ণের যৌনাচার,
রেফারেন্স, ব্রাক্ষ বৈবর্ত পুরান, কৃষ্ণ জন্ম খন্ড, ১১২,১-১০,
"কৃষ্ণ তাহার স্ত্রী রুকমনীর পানে বিমুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছেন, যে কিনা এখনো পরিপুর্নভাবে বেড়ে ওঠে নি এবং যার বয়োসন্ধি শুরু হয়েছে মাত্র এবং যৌনতা সম্বন্ধে এখনো যার কোন ধারনাই গড়ে ওঠে নি । এমন মুহুর্তে কৃষ্ণ তার সহিত যৌনক্রিড়া শুরু করে দিল এবং রুকমনী জ্ঞান হারিয়ে ফেলল "
নীচে স্ক্রীনশট
Brahma Vaivarta Purana, Translated by:  T. R Rajendra Nath Sen
শিব বিয়ে করে ৮ বছর বয়স্ক পার্বতীকে।
হ্যা, অবাক হলেও এটাই সত্য, শিব পার্বতীকে অতি অল্প বয়সেই বিবাহ করে হিমাচলে নিয়ে এসে সংসার শুরু করে। পার্বতীর বয়স ছিল তখন ৮ বছর।
রেফারেন্স, শিবপুরাণ, রুদ্রসংহিতা, পার্বতীখন্ড, ৩.১১.১-২,
Shiva Purana, Translated by: J. L. Shastri
এখানে Himavat  হচ্ছে পার্বতীর আরেক নাম।
হিন্দু দাদাদের কি কিছু বলার আছে তাদের প্রধান প্রধান অবতারদের শিশু বিবাহ নিয়ে ?
খ্রিষ্টানধর্মে শিশু ধর্ষন ও বিবাহঃ
বাইবেলে সরাসরি শত্রুপক্ষের মেয়ে শিশুদেরকে নিজের করায়াত্তে ব্যাবহার করার অনুমতি দিয়েছে ।
বাইবেল কিং জেমস ভার্সন ৩১,১৭-১৮, বলা আছে,
“তাদের প্রত্যেক পুরুষ শিশূকে হত্যা কর, প্রত্যেক নারীকে হত্যা কর যারা পুরুষের সাথে শয্যাযাপন করেছে।
কিন্তু মেয়েশিশু যারা কোণ পুরুষের সহিত শয্যাযাপন করেনি, তাদের জীবিত রাখ নিজের জন্য।”
অনলাইন লিংক
https://www.biblegateway.com/passage/?search=Numbers+31%3A17-18&version=KJV
অর্থাৎ শত্রুদের সকল পুরুষ শীশু ও নারীদের হত্যার আদেশ দিচ্ছে বাইবেল কিন্তু তাদের মেয়ে শিশূদেরকে নিজের জন্য রেখে দিতে বলেছে। কি অমানবিক ও জঘন্য আদেশ বাইবেলের।
অনেক খ্রিষ্টানরা আবার এখানে দাবি করে বসতে পারে যে, মেয়ে শিশূ নিজের জন্য রাখা মানেই সেক্স এর জন্য রাখা নয়, বরং এর মানে তাদের ভরনপোষন এর ভার নেয়া। তবে এই দাবি এখানেই নস্যাত হয়ে যায়, কারন বাইবেল যদি শীশুদের সুরক্ষার জন্য ওই শ্লোক লিখে থাকে, তবে পুরুষ শিশুদের ক্ষেত্রেও একি আদেশ দিত। কিন্তু আমরা প্রথম লাইনে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি সকল পুরুষ শিশুদেরকে হত্যার আদেশ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ নিঃসন্দেহে মেয়ে শিশুদের ভরনপোষন বা নিরাপত্তার জন্য বাইবেল এই কথা বলেনি বরং তাদের দ্বারা যৌনলিপ্সা বা যেকোন প্রকার লিপ্সা চরিতার্থের অনুমতি প্রদান করেছে বাইবেল।
মাতা মেরীর নাম আমরা নিশ্চয়ই শুনেছি। জানেন কি তার বিয়ে হয়েছিল কত বছর বয়সে ? তার বয়স ছিল ১২ থেকে ১৪ বছর যখন জোসেফের সাথে তার বিয়ে হয়েছিল। আর জোসেফের বয়স ছিল তখন ৯০ বছর। এবার খ্রিষ্টান বিদ্বেষিরা কি বলবে ? জোসেফকে কি তারা পেডোফিল বা শিশু ধর্ষক বলতে পারবে ?
নীচে ক্যাথলিক এনসাইক্লোপিডিয়া দেয়া হল, এখানে Marriage সেকশনটা পড়ুন
http://www.newadvent.org/cathen/08504a.htm

ঈহুদী ধর্মে শিশু বিয়েঃ
ঈহুদী ধর্মানুসারে নবী ঈসহাক ৪০ বছর বয়সে বিয়ে করেন মাত্র ৩ বছর বয়সী রেবকা কে।
এখন ইহুদিরা কি নবী ঈসহাক কে পেডোফিল বলতে পারবে ?
বিস্তারিতঃ
http://jewishworker.blogspot.com/2008/11/how-old-was-rivka-when-she-married.html
  

‘ইসলাম’ অর্থের খোঁজে?


‘ইসলাম’ অর্থের খোঁজে?
“ইসলাম” অর্থ কি? এর অর্থ কি শান্তি, অনেক নামধারী মুসলিমকে যেমনটা বলতে শোনা যায়?
নাকি এর অর্থ “জঙ্গিবাদ”? যা পশ্চিমা মিডিয়া ও এর বিশ্বব্যাপী দোসররা আমাদের বিশ্বাস করাতে উঠেপড়ে লেগেছে। আর এজন্য ব্যয় করছে কোটি কোটি ডলার! বিশ্বাস হচ্ছে না, তাই না? মাসজিদের হুজুররা  কি শুধুশুধু বলে বেড়ায় – ইহুদি খ্রিস্টানরা আমাদের পিছে লেগেছে?
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের Berkeley Center for Race and Gender ও কাউনসিল অন অ্যামেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (CAIR) কর্তৃক যৌথভাবে পরিচালিত সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী ‘ইসলামোফোবিয়া’ অর্থাৎ ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিদ্বেষ ছড়াতে নিয়োজিত গোষ্ঠিসমূহকে ২০০৮ থেকে ২০১১ সালের মাঝে অনুদান প্রদান করা হয়েছে ২০৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশী অর্থ !! (1)
ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় যে, ব্রিটেনের মুসলিম সম্প্রদায়কে নিয়ে মূলধারার মিডিয়ার প্রচারণা মুসলিমদের বিরুদ্ধে শত্রুIssভাবাপন্ন পরিবেশ তৈরীতে অবদান রেখে চলছে … (2)
কিন্তু এরপরও ইসলাম বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম। (3) ওয়াশিংটন ভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টার কর্তৃক পরিচালিত প্রায় ছয় বছর ব্যাপী চলমান গবেষণার ফল এই শতকের মাঝেই বিশ্বের প্রধান ধর্ম হবে ইসলাম। (4)
অনেকে বলতে চান এই বৃদ্ধির জন্য দায়ী শুধু “বায়োলজিক্যাল গ্রোথ” বা অধিক জন্মহার !! (5) এটা একটি কারণ ঠিকই। তবে তারা সুকৌশলে এড়িয়ে যেতে চান যে শুধু জন্মহার নয়, বরং অন্য ধর্ম বা নাস্তিকতা থেকে ইসলামে আসা এর অন্যতম কারণ। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ নারী !! (6)
তবে কেন এই প্রত্যাবর্তন ?
“ইসলাম” শব্দটির উৎস আরবি মূলশব্দ (সিন লাম মিম) (যার অর্থ আত্মসমর্পন, শান্তি, নিরাপত্তা ইত্যাদি)। প্রাচীন আরবি ভাষার প্রখ্যাত অভিধান লিসানুল্‌ আ’রব অনুযায়ী, “ইসলাম” এর শাব্দিক অর্থ “ইস্‌তিস্‌লাম্‌” অর্থাৎ আত্মসমর্পন করা, অনুগত হওয়া ইত্যাদি। (7)
সামগ্রিকভাবে ইসলাম হল, জীবনের সকল ক্ষেত্রে স্রষ্টার ইচ্ছার কাছে পরিপূর্ণ রূপে আত্মসমর্পন করে শান্তি অর্জন করা। ইসলাম কোন জন্মগত বা বংশগত পরিচয়ের নাম নয়, বরং এর ভিত্তি আদর্শে ও কর্ম। অর্থাৎ ইসলামকে কেবল ধর্ম বলা সম্পূর্ণ ভুল। এটি একটি জীবনব্যবস্থা, একটি সংবিধান, একটি লাইফস্টাইল, একটি ওয়ার্ল্ডভিউ। ভাবতে অবাক লাগে, অনেক অমুসলিম গবেষক ইসলামের সঠিক অর্থ বুঝতে পেরেছেন যা বহু মুসলিম দাবিকারীও পারে নি !! (8)
সুতরাং ইসলামকে বুঝতে হলে আমাদের তিনটি বিষয় সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখতে হবে-
১। স্রষ্টা আছেন তো ? কিভাবে জানব তিনি আছেন কিনা ? তার বৈশিষ্ট্যই বা কি ?
২। তার ইচ্ছা কি ? কিভাবে তার ইচ্ছা আমরা জানতে পারি ?
৩। আর কিভাবে তাঁর ইচ্ছার কাছে পরিপূর্ণভাবে আত্মসমর্পন করে শান্তি অর্জন করা যায় ?
তথ্যসূত্র:
(1) Hamila Kazem, Funding Islamophobia: $206m went to promoting ‘hatred’ of American Muslims. The Gurdian, 20 Jun 2016. Available at: https://www.theguardian.com/us-news/2016/jun/20/islamophobia-funding-cair-berkeley-report
(2) Miqdaad Versi, Why the British media is responsible for the rise in Islamophobia in Britain. The Independent, 4 April 2016. Availabe at: https://www.independent.co.uk/voices/why-the-british-media-is-responsible-for-the-rise-in-islamophobia-in-britain-a6967546.html
(3) Guinness World Records 2003; p. 142 (https://tinyurl.com/mz99w5g)
(4) Nadia Whitehead, A Religious Forecast For 2050: Atheism Is Down, Islam Is Rising. NPR, December 25, 2015. Available at: https://www.npr.org/sections/goatsandsoda/2015/12/25/460797744/a-religious-forecast-for-2050-atheism-is-down-islam-is-rising
(5) The Future of World Religions: Population Growth Projections, 2010-2050. Available at: http://www.pewforum.org/2015/04/02/religious-projections-2010-2050
(6) Why ARE so many modern British career women converting to Islam? The Daily Mail, 28 October 2010. Available at: http://www.dailymail.co.uk/femail/article-1324039/Like-Lauren-Booth-ARE-modern-British-career-women-converting-Islam.html
Jack Doyle, How 100,000 Britons have chosen to become Muslim… and average convert is 27-year-old white woman. The Daily Mail, 5 January 2011. Available at: http://www.dailymail.co.uk/news/article-1343954/100-000-Islam-converts-living-UK-White-women-keen-embrace-Muslim-faith.html
(7) Ibn Manzur, Lisanul A’rab; vol. 7; p. 243 (Al Maktabatul Islamiyyah Online); Lane’s Arabic-English Lexicon; vol 4, p. 1413 (Beirut, Librairie Du Liban, 1968)

(8) Britannica Encyclopedia of World’s Religion; p. 515 (2006 by Encyclopedia Britannica Inc.); Karen Armstrong, Islam A Short History; p. 05 (New york, Modern Library, Paperback Edition 2002); John L. Esposito, Islam: The Straight Path; p. 69 (Oxford University Press, Edition: 2, Illustrated, reissue, 199

নাস্তিক্যবাদ: পরিচিতি [Atheism: An Introduction]

নাস্তিক্যবাদ: পরিচিতি [Atheism: An Introduction]


ইংরেজি Atheist (এথিইস্ট) শব্দটি মূলত গ্রীক থেকে আসা। দুটি গ্রীক শব্দ (a+theos) মিলে গিয়ে এর অর্থ দাঁড়িয়েছে – “এক বা একাধিক স্রষ্টার অস্তিত্বে যে অবিশ্বাসী”।  (1)
তবে এথিইস্ট শব্দের শুরুটা কিন্তু এই অর্থে হয় নি। ইতিহাস থেকে জানা যায় খ্রিস্ট পরবর্তী দ্বিতীয় শতকে খ্রিস্টানরা মুখ বেজার করে অভিযোগ করতো, দেখো! ওরা আমাদের এথিইস্ট বলছে, অথচ এই অভিযোগ ওদের ঘাড়েই বর্তায়! তো ওরা, মানে রোমান পৌত্তলিকেরা খ্রিস্টানদের ‘এথিইস্ট’ বলে অভিহিত করত কেন? কারণ খ্রিস্টানরা রোমান পৌত্তলিকদের প্রচলিত ধর্মকর্মে বিশ্বাসী ছিলো না, তাই। (2) গবেষকদের মতে সেই প্রাচীন যুগে আজকের প্রচলিত অর্থে নাস্তিক কারো হদিশ মেলা ভার। (3) প্রচলিত ধর্মাচারের বিরোধীদের গায়েই নাস্তিক তকমা লাগানো হতো।
অন্যদিকে আজকের বাংলা ভাষায় Atheist এর প্রতিশব্দ হলো ‘নাস্তিক’। এই শব্দের বুৎপত্তিতেও কিন্তু মজার ব্যাপার আছে। উমেশচন্দ্র ভট্টাচার্য তাঁর ‘ভারত দর্শনসার’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন,
“বেদে অবিশ্বাসীরাই নাস্তিক বলে আখ্যায়িত। চার্বাক এই অর্থে নাস্তিক” (4)
বোঝা যাচ্ছে এক্ষত্রে চার্বাকের দোষ ছিলো দ্বিতীয় শতকের খ্রিস্টানদের মতই। খ্রিস্টানরা রোমান পৌত্তকদের আচার-বিশ্বাস মানে নি, আর চার্বাক মহাশয় বেদের বিধিবিধান মানে নি। একই কাতারে শামিল হয় বৌদ্ধধর্ম ও জৈনধর্ম।
ভাষা ও শব্দ যেহেতু বিবর্তনশীল তাই সময়ের স্রোতে নাস্তিক অর্থ স্রষ্টার অস্তিত্বে অবিশ্বাসে এসে থিতু হয়েছে। কিন্তু ঝামেলা হলো, বিদ্যানগণ নাস্তিক্যবাদের কোন সংজ্ঞতেই এখন পর্যন্ত একমত হতে পারেন নি। (5) তো দার্শনিক কামড়াকামড়ি বাদ দিয়ে চলুন প্র্যাকটিকেল চিন্তাভাবনা করা যাক। মোটাদাগে চিন্তা করলে নাস্তিক হতে পারে এমন কেউ যে:
ক) জোরের সাথে দাবী করবে – কোন স্রষ্টা নেই।
খ) স্রষ্টার অস্তিত্বের পক্ষে কোন যুক্তিই তার মন:পূত হচ্ছে না। (কানে কানে বলে রাখি এরা আসলে অজ্ঞেয়বাদের কাতারে শামিল।)
গ) এমনিতেই স্রষ্টায় বিশ্বাস করে না।
আসলে এমন ভাগাভাগি কিন্তু সহজ কাজ না। মানুষ তো আর সোফিয়া রোবটের মত না। আমাদের জীবনদর্শনের পিছে নানা নিয়ামক কাজ করে – আবেগ, পারিপার্শ্বিক চাপ, আধ্যাত্মিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবক, আরো কত কী। তবে আমার অভিজ্ঞতা থেকে বললে, নাস্তিকতা যুক্তি ও বিজ্ঞানপ্রসূত কোন কটমটে বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থান না কিন্তু। এটি গভীরভাবে মনস্তত্ত্বে গ্রথীত। তবে ব্যতিক্রম যে নেই তা বলব না।
নাস্তিক্যবাদ ও অস্তিত্বগত বস্তুবাদ
নাস্তিকদের অধিকাংশ জীবনদর্শন হিসেবে অস্তিত্বগত বস্তুবাদকে গ্রহণ করেন। দার্শনিক বা অস্তিত্বগত বস্তুবাদ বলতে চায় সুবিশাল এই মহাবিশ্বে ঘটে চলা সকল ঘটনাই জাগতিক বা ভৌত প্রক্রিয়ার দ্বারা ব্যাখ্যা করতে হবে। এই ভৌত প্রক্রিয়াগুলো উদ্দেশ্যহীন, এলোমেলো, অযৌক্তিক স্রেফ জড় প্রক্রিয়া। নব্য নাস্তিক্যবাদের অন্যতম পুরোধা রিচার্ড ডকিন্স নাস্তিকদের এই বিশ্বাস সম্পর্কে বলেন,
“দার্শনিক বস্তবাদি অর্থে নাস্তিক হলো এমন ব্যক্তি যে বিশ্বাস করে পার্থিব, ভৌত জগতের বাইরে কিছু নেই। কোনো স্রষ্টা নেই যিনি দৃশ্যমান এই মহাবিশ্বের পিছনে চুপিসারে কলকাটি নাড়ছেন। আত্মার কোন অস্তিত্ব নেই যা মৃত্যুর পরও বেঁচে থাকে, নেই অলৌকিক বলে কোনো কিছু। কেবলই রয়েছে জাগতিক ঘটনাবলী, যা আমরা এখনো বুঝে উঠতে পারি নি।” (৬)
সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ তাঁর আমার অবিশ্বাস গ্রন্থে লিখেন,
“… আমি কোনো মহাপরিকল্পনা নই, কোনো মহাপরিকল্পনার অংশ নই, আমাকে কেউ তার মহাপরিকল্পনা অনুসারে সৃষ্টি করে নি; একরাশ প্রাকৃতিক ক্রিয়ার ফলে আমি জন্মেছি, অন্য একরাশ প্রাকৃতিক ক্রিয়াকলাপের ফলে আমি ম’রে যাবো, থাকবো না; যেমন কেউ থাকবে না, কিছু থাকবে না।…” (৭)
যদিও এমন নাস্তিকও পাওয়া যায় যারা স্রষ্টার অস্তিত্ব না মানলেও অতিপ্রাকৃত কিছু থাকতে পারে এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন না। তবে কানে কানে বলে রাখি, এই দার্শনিক বস্তুবাদও কিন্তু অন্ধবিশ্বাস! কি, অবাক হলেন! এটা আমার কথা না কিন্তু, নাস্তিক গবেষকের কথা যিনি ডকিন্স গংদের চেয়ে তুলনামূলকভাবে সৎ। সুপরিচিত নাস্তিক বিজ্ঞান-দার্শনিক প্রফেসর মাইকেল রুজ বলেন,
“আপনি যদি স্বীকারোক্তি চান তবে শুনুন, আমি সবসময় স্বীকার করেছি বস্তুবাদ হলো স্রেফ অন্ধবিশ্বাস… ” (৮)
আমি হলফ করে বলতে পারি, এমন স্বীকারোক্তি আপনি বঙ্গীয় মুক্তমণাদের লেখাজোকায় পাবেন না। আপনি দেখতে পাবেন এরা পাতার পর পাতা লিখে বুক ফুলিয়ে তা অস্বীকার করে চলছে। (৯) মিডিয়া ফিগার, নাস্তিক ও ফেমিনিস্ট লেখিকা ইজিওমা ওলু’র কলমে এই স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়,
“… স্রষ্টা নেই আমার এহেন দৃঢ় বিশ্বাস কেবলই অন্ধবিশ্বাস। আমরা যেমন (বস্তুগতভাবে) প্রমাণ করতে পারবো না যে স্রষ্টা আছেন, একইভাবে এও প্রমাণ করতে পারবো না যে স্রষ্টা নেই। স্রষ্টা না থাকার অনুভূতির স্বীয় সত্তার মাঝে পুরেই আমি দিনানিপাত করি। কিন্তু আমি মোটেও এই ঘোরের মধ্যে থাকি না যে, আমার এই অনুভূতি আস্তিকদের স্রষ্টার অস্তিত্বে দৃঢ় বিশ্বাসের তুলনায় বেশি তথ্যপ্রমাণ নির্ভর।” (10)
[কিছু কথা: এই লেখাটি মূলত আমার পরিকল্পনায় থাকা একটি বইয়ের সূচনার অংশ। নাস্তিক্যবাদে উপর একক একটি বই লিখার ইচ্ছা রয়েছে। চিকিৎসা জীবন খুব ব্যস্ত ও ক্লান্তিকর। এর মাঝে সময় বের করা বাড়তি পড়া, পাশাপাশি লিখার সময় ও শ্রমসাপেক্ষ ব্যাপার। তবুও মহান রবের নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেনো সহায় হন।]
রেফারেন্স:
(1) জুলিয়ান বাগিনি, এথিইজম: এ ভেরি শর্ট ইনট্রোডাকশন; পৃ. ০৩ (অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ২০০৩)। অক্সফোর্ড অনলাইন ডিকশনারিতে উপরের সংজ্ঞার সাথে “বা যার বিশ্বাসে ঘাটতি রয়েছে” অংশটুকুও যুক্ত করা হয়েছে। যদিও অন্যান্য প্রথম সারির ইংরেজি অভিধানগুলোতে এই বাড়তি অংশটি পাওয়া যায় না।
(2) স্টিফেন বুলিভ্যান্ট, মাইকেল রুজ (সম্পাদিত), দি অক্সফোর্ড হ্যান্ডবুক অফ এথিইজম; পৃ. ১৫৪-১৫৫ (অক্সফোর্ড, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ২০১৩)
(3) প্রাগুক্ত, পৃ. ১৫২
(4) উমেশচন্দ্র ভট্টাচার্য, ড. আর এম দেবনাথ রচিত সিন্ধু থেকে হিন্দু গ্রন্থে উদ্ধৃত; পৃ. ২০৯ ()
(5) Bullivant, S. (2015). Defining ‘Atheism’. In: The Oxford Handbook of Atheism. Oxford: Oxford University Press, pp. 11-21.
(6) Dawkins, R. (2006) The God Delusion. London: Bantam Press, p. 14
(7) হুমায়ুন আজাদ, আমার অবিশ্বাস; পৃ. ১৩ (ঢাকা, আগামী প্রকাশনী, সপ্তম মুদ্রণ ফেব্রুয়ারী ২০১১)
(8) Stewart, R. B. (ed.). (2007) Intelligent Design: William A. Dembski & Michael Ruse in Dialogue. Minneapolis, MN: Fortress Press, p.37.
(9) অভিজিৎ রায় ও রায়হান আবীর, অবিশ্বাসের দর্শন; পৃ. ২৬৫-২৬৭ (ঢাকা, শুদ্ধস্বর প্রকাশন, ২য় সংস্করণ, ফেব্রুয়ারী ২০১২)

(10) Ijeoma Oluo, My atheism does not make me superior to believers. It’s a leap of faith too. The Guardian, 24 Oct 2015. Available at: https://www.theguardian.com/commentisfree/2015/oct/24/atheism-does-not-make-me-superior-to-believers-its-a-leap-of-faith-too

সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য  বড় একটি হাতিয়ার ইসলামকে নিন্দা করা!


সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য  বড় একটি হাতিয়ার ইসলামকে নিন্দা করা!
ইসলামোফোবিয়া (১)
একবিংশ শতকের সূচনালগ্নে মিডিয়া জুড়ে কোন ধর্মের আলোচনা-সমালোচনা-নিন্দা সবচেয়ে বেশি চলে? এ প্রশ্নের উত্তর খুব সহজেই আঁচ করা যায় – সে ধর্ম হলো ইসলাম! এথনিক/কালচারাল/ফোক মুসলিমরা (যদিও এমন কোনো পরিভাষা মূল ইসলামে নেই) ইসলামের কথা শুনলেই কেমন এক হীনমন্যতায় ভোগেন! সন্ত্রাসবাদী ও বর্ণবাদী পশ্চিমাদের মিডিয়া আগ্রাসনে বিচ্ছিন্ন হয়ে ইসলাম নিয়ে অমুসলিম তো বটেই, নামে মুসলিমদের মাঝেও বিরক্তি, আশংকা, ভয় কাজ করতে দেখা যায়।
এর কারণ কী হতে পারে? এর কারন কী সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাবলী যা আমরা ঘটতে দেখছি? না এর কারন হতাতের সংখ্যা ? তাই যদি হয়, তবে যুক্তির আলোকে অন্য কোন ধর্ম বা মতবাদকে আমাদের ততটুকু “ভয় বা ঘৃণা” করা উচিত হবে কি? যদি আরও বেশী ভীত আমরা হতে না চাই! মুসলিম হিসেবে তা আমরা কখনোই সমর্থন করি না, বরং আমরা আশা ও ভালোবাসার বাণী শোনাতে চাই। কিন্তু কেন এই নেতিবাচক মনোভাব শুধুমাত্র ইসলামের প্রতি? একই কাজ অন্য মতবাদ বা ধর্মের মানুষের ক্ষেত্রে কেনো এতো প্রচার পায় না? কেনো আমাদের ভেতর বিরক্তি ও ভয় উদ্রেক করে না?
এটা কি প্রায় ৪৩ মিলিয়ন ডলার অর্থায়নের ফল যা সরাসরি ইসলামের প্রতি ঘৃণা ও ভয় ছড়াতে অনুদান দেয়া হয়েছিল! অবাক হলেন নাকি? বানিয়ে বলছি না কিন্তু। Center for American Progress এর গবেষণা অনুযায়ী ২০০১ থেকে ২০০৯ সালের মাঝে সাতটি গোষ্ঠি প্রায় ৪২.৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান প্রদান করেছে ইসলামোফোবিয়া ছড়াতে নিয়োজিত দলগুলোকে !! (1) তাদের প্রচারিত মিথ্যা তথ্য এরপর ছড়িয়ে পড়ে আরও বড় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যাতে অংশ নেয় অ্যাকটিভিস্ট, মিডিয়া, রাজনীতিবিদ এবং আরও অনেকে যা ইসলাম একটি সহিংস ধর্ম এই ভুল ধারণার প্রতিধ্বনি ঘটায়। সাম্প্রতিক সময়ে এই অনুদানের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে আশংকাজনক হারে !
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ভিত্তিক সর্ববৃহৎ মুসলিম সিভিল রাইটস এবং অ্যাডভোকেসি সংস্থা কাউনসিল অন অ্যামেরিকান -ইসলামিক রিলেশনস (CAIR) কর্তৃক ২০১৩ সালে প্রকাশিত “Legislating Fear: Islamophobia and its Impact in the United States” প্রতিবেদনে জানা যায় ইসলাম বিরোধী গোষ্ঠীগুলো ২০০৮-২০১১ সালের মাঝে অনুদান পেয়েছে ১১৯ মিলিয়ন ডলারেরও বেশী অর্থ !! (2) ২০১৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের Berkeley Center for Race & Gender এবং CAIR যৌথভাবে গবেষণার ফল প্রকাশ করে “Confronting Fear: Islamphobia and its Impact in the United States” প্রতিবেদনে, এবং জানায় যে ২০০৮-২০১৩ সালের মাঝে ইসলামোফোবিয়া ছড়াতে নিয়োজিত দলগুলো অনুদান পেয়েছে ২০৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশী অর্থ!! (3)
আচ্ছা, যদি এই পরিমাণ অর্থ অন্য কোন মতবাদ (যেমন: গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র) বা কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে ঘৃণার আগুন ছড়াতে ব্যবহৃত হয় তবে কি পরিণতি হবে?
সেক্যুলার পশ্চিমা গবেষকদের গবেষণায় জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইসলামোফোবিয়া নেটওয়ার্কের অন্তঃকেন্দ্রে রয়েছে প্রায় ৩৩টি গোষ্ঠী যাদের মূল লক্ষ্য হল ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ভুল ধারণা ও বিদ্বেষ ছড়ানো। এছাড়া আরও ৪১টি দল ইসলামোফোবিয়ার সমর্থনে কাজ করে যাচ্ছে যাদের দ্বারা নেটওয়ার্কের বহিঃকেন্দ্র গঠিত। (4) ইসলাম বিরোধী আইন প্রণয়নের ধারাবাহিকতায়, ২০১৫ সালে ৩১টি বিল বা সংশোধনী প্রণয়ন করা হয়েছে ১৭টি অঙ্গরাজ্যের আইন সভায় যার মূল লক্ষ্য মুসলিমদের ধর্মীয় আচারসমূহের প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করা। এর মধ্যে ২৩টি বিল সেই ভাষা বহন করে যা ডেভিড ইয়েরুশ্যালমাই এর “অ্যামেরিকান ল’স ফর অ্যামেরিকান কোর্টস (ALAC)” থেকে গৃহিত। কেন এই বিষয়টি জানা জরুরি? কারণ ডেভিড অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে মুসলিম বিরুদ্ধে ঘৃণা ও ভীতি ছড়াতে সিদ্ধহস্ত। এরপরও আইন নেয়া হচ্ছে তার থেকে? এই বিলগুলোর মাঝে ৩০টি বিল প্রণয়নে অর্থায়ন করেছে শুধুমাত্র রিপাবলিকান নেতারা। বাকি একটি বিল প্রণয়নে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক উভয় পক্ষ অংশ নিয়েছে!
মূল ইসলামকে পরিবর্তন করে কিভাবে ‘মডারেট ইসলাম’কে প্রচলিত করা যায় সে উদ্দেশ্যে একের পর এক গবেষণা পত্র প্রকাশিত হচ্ছে! (5) কিন্তু কেন তারা এই নিচু কৌশল অবলম্বন করছে? কারণটা সহজ, তারা দূর্বলের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায় বা তারা ‘ইনফিরিয়রিটি কমপ্লেক্স’ এ আক্রান্ত কারণ তারা এমন বিক্রেতা যার পন্য নিম্নমানের। তাই আপনাদের কাছে তাদের পণ্য বিক্রির জন্য তাদের মনোনিবেশ করতে হয় অন্যের ব্যাপারে অতিরঞ্জিত মিথ্যা ছড়াতে। (6) অধিকাংশ সময় তাদের এই চেতনার প্রকাশ ঘটে, কারণ তারা জানে যা তাদের নিকট আছে তা কোনক্রমেই উত্তম নয়। তাছাড়া এই নেতিবাচক মানুষগুলো আত্মিকভাবেও ব্যর্থ।
তাহলে আমরা কেন ভীত?
কারণ কিছু মানুষের অন্তর ঘৃণায় পরিপূর্ণ, আর তারা এই ঘৃণার আগুন ছড়িয়ে দিচ্ছে যাতে করে আমরাও ‘ঘৃণা ও ভয়ের’ মহামারীতে আক্রান্ত হই। বিশ্বায়নের যুগে এই আগুন ছড়িয়ে পড়ছে সারা বিশ্বে দাবানলের মত। (7) ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মাসজিদগুলোর ওপর ৭৮ বার হামলা করা হয়েছে যা আগের বছরগুলোর তুলনায় ৩গুন! (8) যুক্তরাজ্যে মুসলিম বিদ্ধেষী আক্রমণের হার ২০১৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২৬%, যার লক্ষ্যবস্তুর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারী, প্রায় ৬১% ! (9)
এর মানে কি মুসলিমরাও ঘৃণা ছড়াবে? না। বরং তাদের আরও বেশী উদ্যমী হতে হবে সত্য প্রকাশে এবং ইসলামের সৌন্দর্যকে যৌক্তিকভাবে মানুষের সামনে উপস্থাপন করতে। আশার কথা হলো, এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও অসংখ্য অমুসলিম ইসলামকে অধ্যয়ন করে নিজের জীবন ব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করছে ! (10) অবাক হচ্ছেন?
অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব চিন্তাশক্তি ও মনন হয়েছে। যখন আমাদের চিন্তা ও চেতনায় গণমাধ্যমের অনধিকার প্রবেশ আমরা বন্ধ করতে পারব, কেবল তখনই মুক্তি সম্ভব। তা না হলে আমরা মিডিয়ার দাসে পরিণত হব। ম্যালকম এক্স (11) বলেছিলেন,
“The media’s the most powerful entity on earth. They have the power to make the innocent guilty and to make the guilty innocent, and that’s power. Because they control the minds of the masses.”
“মিডিয়া হল পৃথিবীর বুকে অত্যন্ত ক্ষমতাধর সত্ত্বা। তাদের ক্ষমতা আছে নির্দোষকে অপরাধী ও অপরাধীকে নির্দোষে পরিণত করার, এবং এটা সত্যিই এক শক্তি। কারণ, তারা জনসাধারণের মনকে নিয়ন্ত্রণ করে।” (12)
তাই আসুন নিজের অন্তরকে সত্যের পানে উন্মুক্ত করি, সত্য জানতে সচেষ্ট হই। কারণ, সত্য মুক্তির পথ দেখায়।
রেফারেন্স:
(1) https://www.americanprogress.org/issues/religion/report/2011/08/26/10165/fear-inc/
(2) http://www.cair.com/press-center/press-releases/12149-cair-report-islamophobia-network-funded-with-119-million-2008-to-2011.html ; http://www.nydailynews.com/news/national/anti-muslim-groups-rake-millions-u-s-article-1.1461566
(3) Confronting Fear: Islamphobia and its Impact in the United States, p. vii
http://crg.berkeley.edu/content/confronting-fear
https://www.theguardian.com/us-news/2016/jun/20/islamophobia-funding-cair-berkeley-report
http://www.nbcnews.com/news/asian-america/mosque-attacks-apparent-anti-islam-spending-report-n595826
http://www.aljazeera.com/indepth/features/2016/06/report-islamophobia-multi-million-dollar-industry-160623144006495.html
(4) Confronting Fear: Islamphobia and its Impact in the United States, p. vii
(5) মডারেট ইসলাম (Moderate Islam) বাস্তবায়নে RAND Corporation এর পরিকল্পনা পত্র Civil Democratic Islam, Building Moderate Muslims Network ইত্যাদি।
(6) http://money.cnn.com/2015/01/18/media/fox-apologizes-for-anti-islam-comments
(7) http://www.gallup.com/poll/157082/islamophobia-understanding-anti-muslim-sentiment-west.aspx
(8) Confronting Fear: Islamphobia and its Impact in the United States, p. viii
(9) http://www.independent.co.uk/news/uk/home-news/brexit-muslim-racism-hate-crime-islamophobia-eu-referendum-leave-latest-a7106326.html
(10) https://m.youtube.com/watch?v=_DeBzL9TJBs ; https://m.youtube.com/watch?v=vSGNybMDTgI
(11) Malcolm X (১৯২৫-১৯৬৫) ছিলেন একজন আফ্রিকান-মার্কিন মুসলিম রাজনীতিবিদ ও ধর্মীয় নেতা, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের মানবাধিকার আদায়ের আন্দোলনে অন্যতম অংশগ্রহণকারী ছিলেন। জন্মের পর তাঁর নাম দেওয়া হয় Malcolm Little । পরবর্তীতে Nation of Islam এর নেতা ও নব্যুওয়াতের দাবীদার এলিজা মুহাম্মদের আদর্শ (Elijah Muhammad) দ্বারা প্রভাবিত হন ও তার মত গ্রহন করেন। তাঁর নতুন নাম হয় ম্যালকম এক্স।
ঘটনাচক্রে তিনি Elijah Muhammad এর গোপন চারিত্রিক কলুষণের সংবাদ পান ও গভীরভাবে আহত হন কারণ তিনি তাকে নবী মনে করতেন। পরবর্তীতে তিনি মক্কাতে হজ্জে গমন করেন। সেখানে বিশ্বভ্রাতৃত্বের স্বরূপ দেখে তিনি উজ্জীবিত হন ও মূল ধারার ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি আল-হাজ্জ মালিক আল-শাব্বাজ নামেও পরিচিত।
দেখুন: http://malcolmx.com/biography

(12) https://www.goodreads.com/quotes/74430-the-media-s-the-most-powerful-entity-on-earth-they-have

আইয়ুব (আ) সম্পর্কে বিভ্রান্তি?

আইয়ুব (আ) সম্পর্কে বিভ্রান্তি?
কুরআনে বলা হয়েছে যে, আইঊব (আ) বিপদগ্রস্থ হয়ে সবর করেন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেন এবং তাকে বিপদাপদ থেকে উদ্ধার করেন। তাঁকে তাঁর সম্পদ ও সন্তান ফিরিয়ে দেন।[1]
আইঊব (আ)-এর বালা-মুসিবত বা বিপদাপদের প্রকৃতি, ধরন, বিবরণ, সময়কাল, তাঁর স্ত্রীর নাম, আত্মীয় স্বজনের নাম ইত্যাদি সম্পর্কে কোনো বর্ণনা কুরআন কারীম বা সহীহ হাদীসে নেই। এ বিষয়ক যা কিছু বলা হয় সবই মূলত ইসরাঈলীয় রেওয়ায়াত। অধিকাংশ বিবরণের মধ্যে লাগামহীন কাল্পনিক বর্ণনা রয়েছে। বিভিন্ন মুফাস্সির এ বিষয়ে বিভিন্ন কথা বলেছেন। বিশেষত, ওয়াহ্ব ইবনু মুনাবিবহ, কা’ব আল-আহবার প্রমুখ তাবিয়ী আলিম, যারা ইহূদী ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং ইহূদীদের ধর্মগ্রন্থ ও তাদের মধ্যে প্রচলিত কাহিনী সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন তাঁরাই এ সকল গল্প ‘গল্প’ হিসেবে বলেছেন।[2]
এগুলোকে গল্প হিসাবে বলা যেতে পারে, কিন্তু কখনোই সত্য মনে করা যাবে না। বিশেষত এ সকল গল্পে আইয়ূব (আ)-এর রোগব্যাধির এমন কাল্পনিক বিবরণ রয়েছে যা একজন নবীর মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোনো সহীহ হাদীসে বর্ণিত হলে আমরা তা গ্রহণ করতাম ও ব্যাখ্যা করতাম। কিন্তু যেহেতু কোনো সহীহ হাদীসে এ বিষয়ে কিছুই বর্ণিত হয় নি এবং এগুলো ইসরাঈলীয় বর্ণনা ও গল্পকারদের গল্প, সেহেতু এগুলো পরিত্যাজ্য। এ বিষয়ে দরবেশ হূত (১২৭৬ হি) বলেন, ‘‘আইয়ূব (আ)-এর গল্পে বলা হয় যে, আল্লাহ তাঁর উপরে ইবলিসকে ক্ষমতাবান করে দেন। তখন ইবলিস তাঁর দেহের মধ্যে ফুঁক দেয়। এতে তাঁর দেহ কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়। এমনকি তার শরীরের গোশত পচে যায় ও পোকা পড়তে থাকে ... ইত্যাদি। এগুলো গল্পকাররা বলেন এবং কোনো কোনো মুফাস্সির উল্লেখ করেছেন। ... এ সকল কথা সবই নির্ভেজাল জাল, মিথ্যা ও বানোয়াট কথা। যে-ই একথা বলুন বা উদ্ধৃত করুন না কেন, তাঁর মর্যাদা যত বেশিই হোক না কেন, তাতে কিছু আসে যায় না।  এ সকল কথা আল্লাহর কিতাবে বলা হয় নি এবং তাঁর রাসূলের () কোনো হাদীসেও তা বর্ণিত হয় নি। এমনকি কোনো যয়ীফ বা বাতিল সনদের হাদীসেও তা বর্ণিত হয় নি। এ সহীই সনদ বিহীন বর্ননা..।’’[3] মূলত এই গুলো বাইবেলের বনর্ণা যা মুসলিম সমাজে প্রবেশ করেছে। বাইবেল বলছেঃ
" তখন শয়তান প্রভুর কাছ থেকে চলে গেল| শয়তান যন্ত্রণাদাযক ফোড়ায আইয়োবের পা থেকে মাথা পর্য়ন্ত ভরিয়ে দিল তখন আইয়োব ছাইযের গাদার মধ্যে বসলেন| একটা ভাঙা খোলামকুচি (সরা বা হাঁড়ির ভাঙা টুকরো) দিয়ে তিনি তাঁর ক্ষত চাঁছতে লাগলেন"[4]
"তাই, পচনশীল কাঠের মত, পোকা খাওয়া কাপড়ের মত আমি দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়ে যাচ্ছি|”[5]

Reference........
[1] সূরা (২১) আম্বিয়া: ৮৩-৮৪ আয়াত; সূরা (৩৮) সাদ: ৪১-৪৪ আয়াত।
[2] ইবনু কাসীর, কাসাসুল আম্বিয়া ১/২৩০-২৩৬; আবূ শুহবাহ, আল-ইসরাইলিয়্যাত, পৃ. ২৭৫-২৮২।
[3] দরবেশ হূত, আসনাল মাতালিব, পৃ. ২৮৪।
[4]Book of job 2:7-8
[5]Book ofcjob 13:28

সালাতের মধ্যে বুকের উপর হাত বাঁধা নিয়ে বিভ্রান্তি?

সালাতের মধ্যে বুকের উপর হাত বাঁধা নিয়ে বিভ্রান্তি?
মুরসাল হাদীস কাকে বলে?
উত্তর:যে হাদীসের রাবী সনদের শেষভাগ থেকে বাদ পড়েছে অথার্ৎ তাবেঈর পরে সাহাবীর নাম নেই তালে মুরসাল হাদীস বলে(1)
মুরসাল হাদীসের গ্রহনযোগ্যতা কেমন:
ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালিক(র) মুরসাল হাদীস সন্দেহাতীতভাবে গ্রহনের মত দিয়েছেন।ইমাম শাফিঈ(র) বলেছেন, যদি তা অন্য একটি সানাদে বর্ণিত হবার কারণে শক্তি সঞ্চয় করে, চাই সে সানাদ মুত্তাসিল হোক বা মুরসাল;তবে সেটি গ্রহণযোগ্য হবে।
ইমাম আবূ বাকরর রাজী ও ইমাম আবুল ওলীদ রাজী বর্ণনা করেছেনঃকোনো বর্ণনাকারী যদি নির্ভযোগ্য এবং অনির্ভরযোগ্য সব ধরনের ব্যক্তি থেকে মুসাল বর্ণনা করেন, তাহলে তার মুসাল গ্রহনযোগ্য হবে না, এ ব্যাপারে সকলেই একমত(2)
আবু দাঊদের হাদীস: 
عَنْ طَاوُسٍ قَالَ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ  يَضَعُ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى يَدِهِ الْيُسْرَى ثُمَّ يَشُدُّ بَيْنَهُمَا عَلَى صَدْرِهِ وَهُوَ فِي الصَّلَاةِ.
অনুবাদঃত্বাঊস (র) বলেন, রাসূল (ছাঃ) ছালাতের মধ্যে তাঁর ডান হাত বাম হাতের উপর রাখতেন এবং উভয় হাত বুকের উপর শক্ত করে ধরে রাখতেন(3)
হাদীসটা মুরসাল। তবে অনেকেই হাদীসটা মুরসাল ভেবে মনে করে এটা বাতিল বা আমলযোগ্য না। তাদের দাবী সঠিক নয়। এই হাদীস সর্ম্পকে মহাদ্দিসগন যা বলেছেন তা নিম্নরূপঃ
আলবানী বলেনঃ
وَهُوَ وَإِنْ كَانَ مُرْسَلاً فَهُوَ حُجَّةٌ عِنْدَ جَمِيْعِ الْعُلَمَاءِ عَلَى اخْتِلاَفِ مَذَاهِبِهِمْ فِى الْمُرْسَلِ لِأَنَّهُ صَحِيْحُ السَّنَدِ إِلَى الْمُرْسَلِ وَقَدْ جاَءَ مَوْصُوْلاً مِنْ طُرُقٍ كَمَا أَشَرْنَا إِلَيْهِ آنِفًا فَكاَنَ حُجَّةً عِنْدَ الْجَمِيْعِ.
‘ত্বাউস যদিও মুরসাল রাবী তবুও তিনি সকল মুহাদ্দিছের নিকট দলীলযোগ্য। কারণ তিনি মুরসাল হলেও সনদের জন্য ছহীহ। তাছাড়াও এই হাদীছ মারফূ‘ হিসাবে অনেকগুলো সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। যেমনটি আমি এই মাত্রই উল্লেখ করলাম। অতএব তা সকল মুহাদ্দিছের নিকট দলীলযোগ্য(4)
ইবনে খুযায়মাহর হাদীসঃ
عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ رضي الله عنه قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ اَلنَّبِيِّ  فَوَضَعَ يَدَهُ اَلْيُمْنَى عَلَى يَدِهِ اَلْيُسْرَى عَلَى صَدْرِهِ.
ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে ছালাত আদায় করেছি। তিনি তাঁর ডান হাত বাম হাতের উপর স্থাপন করে বুকের উপর রাখতেন(5)
এই হাদীসটা ও  মুরসাল। তবে অনেকেই হাদীসটা মুরসাল ভেবে মনে করে এটা বাতিল বা আমলযোগ্য না। তাদের দাবী সঠিক নয়। এই হাদীস সর্ম্পকে মহাদ্দিসগন যা বলেছেন তা নিম্নরূপঃ
শাখয় সালেহ আল উসাইমীন বলেনঃ
"হাদীছটিতে সামান্য দুর্বলতা থাকলেও এক্ষেত্রে বর্ণিত অন্যান্য হাদীছের তুলনায় এটিই সর্বাধিক শক্তিশালী"(6)
শাখয় আলবানী বলেনঃ
إِسْنَادُهُ ضَعِيْفٌ لِأَنَّ مُؤَمَّلاً وَهُوَ ابْنُ إِسْمَاعِيْلَ سَيِّئُ الْحِفْظِ لَكِنَّ الْحَدِيْثَ صَحِيْحٌ جَاءَ مِنْ طُرُقٍ أُخْرَى بِمَعْنَاهُ وَفِى الْوَضْعِ عَلَى الصَّدْرِ أَحَادِيْثُ تَشْهَدُ لَهُ.
‘এর সনদ যঈফ। কারণ তা ত্রুটিপূর্ণ। আর তিনি হলেন ইবনু ইসমাঈ। তার স্মৃতি শক্তি দুর্বল। তবে হাদীছ ছহীহ। এই হাদীছ অন্য সূত্রে একই অর্থে বর্ণিত হয়েছে। বুকের উপর হাত রাখার আরো যে হাদীছগুলো আছে, সেগুলো এর জন্য সাক্ষ্য প্রদান করে’(7)
ইমাম শাওকানী বলেনঃ
" وَ لاَشَيْءَ فِى اْلبَابِ أَصَحُّ مِنْ حَدِيْثِ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ الْمَذْكُوْرِ فِىْ صَحِيْحِ ابْنِ خُزَيْمَة ‘
হাত বাঁধা সম্পর্কে ছহীহ ইবন
খুযায়মাতে ওয়ায়েল বিন হুজর (রাঃ) বর্ণিত হাদীছের চেয়ে বিশুদ্ধ কোন হাদীছ আর নেই’(8)
তাই আমরা ভালভাবে দেখলে দেখা যাবে যে হাদীস দুইটি মুরসাল হওয়ার সত্ত্বেও তা আমলযোগ্য।
হাত বাধা সর্ম্পকে সহীহ হাদীসঃ
(5) عَنْ قَبِيْصَةَ بْنِ هُلْبٍ عَنْ أَبِيْهِ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِىَّ  يَنْصَرِفُ عَنْ يَمِيْنِهِ وَعَنْ يَسَارِهِ وَرَأَيْتُهُ قَالَ يَضَعُ هَذِهِ عَلَى صَدْرِهِ وَضَعَ يَحْيَى الْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرَى فَوْقَ الْمِفْصَلِ.
অনুবাদঃ ক্বাবীছাহ বিন হুলব তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তার পিতা বলেছেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে ডান ও বামে ফিরতে দেখেছি এবং হাতকে বুকের উপর রাখার কথা বলতে শুনেছি। অতঃপর ইয়াহইয়া ডান হাত বাম হাতের কব্জির উপর  রাখেন(9)
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُوْلُ الله  إِنَّا مَعْشَرَ الأَنْبِيَاءِ أُمِرْنَا أَنْ نُعَجِّلَ إِفْطَارَنَا وَأَنْ نُؤَخِّرَ سَحُوْرَنَا وَنَضَعَ أَيْمَانَنَا عَلَى شَمَائِلِنَا فِي الصَّلاَةِ.
অনুবাদঃইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, নিশ্চয় আমরা নবীদের দল। আমাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে- আমরা যেন দ্রুত ইফতার করি এবং দেরিতে সাহারী করি। আর ছালাতের মধ্যে আমাদের ডান হাত বাম হাতের উপর যেন রাখি(10)
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ كَانَ النَّاسُ يُؤْمَرُوْنَ أَنْ يَضَعَ الرَّجُلُ الْيَدَ الْيُمْنَى عَلَى ذِرَاعِهِ الْيُسْرَى فِي الصَّلَاةِ قَالَ أَبُوْ حَازِمٍ لَا أَعْلَمُهُ إِلَّا يَنْمِىْ ذَلِكَ إِلَى النَّبِيِّ .

অনুবাদঃসাহল বিন সা‘দ (রাঃ) বলেন, লোকদেরকে নির্দেশ দেওয়া হত, মুছল্লী যেন  মধ্যে তার ডান হাত বাম হাতের বাহুর উপর রাখে। আবু হাযেম বলেন, এটা রাসূল (ছাঃ)-এর দিকেই ইঙ্গিত করা হত বলে আমি জানি।[11]
Reference.......
(1)আবূ দাঊদ ১/১৩পৃঃ ইবনে মাজাহ ১/৬৬০পৃঃ
সহীহ মুসলিম ১/২৬পৃঃ তাফসীর ইবনে কাসীর ১/১৬পৃঃ
(2)আবূ দাঊদ১/১৩পৃঃ
(3)আবু দাঊদ ১/১২০/৭৫৮,
(4)ইরওয়াউল গালীল ২/৭১পৃঃ
(5)ছহীহ ইবনে খুযায়মাহ হা/৪৭৯, ১/২৪৩ পৃঃ; বলূগুল মারাম হা/২৭৫।
(6)ফাতাওয়াহ আরকানুল ইসলাম ১/Q.২৩৭
(8)নায়লুল আওত্বার ৩/২৫ পৃঃ।
(9)আহমাদ হা/২২০১৭; সনদ হাসান,আলবানী, আহকামুল জানাইয, পৃঃ ১১৮
(10). ইবনু হিববান হা/১৭৬৭; সনদ ছহীহ, ছিফাতু ছালাতিন নাবী, পৃঃ ৮৭; ইবনু ক্বাইয়িম, তাহযীব সুনানে আবী দাঊদ ১/১৩০
(11)ছহীহ বুখারী ১/১০/৬৭/৭৪০,

কোরান কি সঠিকভাবে সংরক্ষন করা হয়েছে?

কোরান কি সঠিকভাবে সংরক্ষন করা হয়েছে পর্ব-১ কি যেন বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এটা কি আলোচনা নাকি সমালোচনা ঠিক বুঝি উঠতে পারছিলাম না। আমরা উপ...