বৃহস্পতিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

তাক্বলীদ !

                           তাক্বলীদ! 




কোন ইমামের তাক্বলীদ করা যাবে কিনা এই সম্পর্কে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ কিছু ইমামদের কথা পড়ুন।উপকৃত হবেন ইনআল্লাহ। হলে আমার লেখা সার্থক!
ইমাম আবূ হানীফা(রহঃ)-এর নিষেধাজ্ঞাঃ
1".যখন "ছহীহ হাদীস"পাবে, জেনো সেটাই আমার মাযহাব"(1)
2."আমরা কোথা থেকে গ্রহণ করেছে তা না জেনে আমাদের কথা গ্রহণ করা কারো জন্য বৈধ নয়"(2)
3."যে ব্যক্তি আমার দলীল জানি না আমার কথা দ্বারা ফৎওয়া প্রদান করা তার জন্য হারাম"(3)
4."নিশ্চয়ই আমরা মানুষ।আমরা আজকে যা বলি,আগামীকাল তার থেকে ফিরে আসে"(4)
5."তোমার জন্য আফসোস হে ইয়াকুব(আবু ইউসুফ) তুমি আমার থেকে যা শোন তা লিখে নিও না। কারণ আমি আজ যে মত প্রদান করি,কাল তা প্রত্যাখান করে এবং কাল যে মত প্রদান করি, পরশু তা প্রত্যাখান করি"(5)
6."আমি যদি আল্লাহ কিতাব (কুরআন) ও রাসূলূল্লাহ(সা)-এর কথার (হাদীছ)বিরোধী কোন কথা বলে থাকি,তাহলে
আমার কথা ছুঁড়ে ফেলে দিও"(6)
ইমাম মালিক(রহ)-এর নিষেধাজ্ঞাঃ
1."আমি একজন মানুষ মাত্র।আমি ভুল করি, আবার ঠিক ও করি।অতত্রব আমার সিদ্ধান্তগুলো তোমরা যাছাই কর।যেগুলো কুরআন ও সুন্নাহ'র অনুকূলে হবে সেগুলো গ্রহণ কর। আর যেগুলো কুরআন ও সুন্নাহ প্রতিকূলে হবে তা প্রত্যাখান কর"(7)
2."রাসূলূল্লাহ (সা)-এর পরে এমন কোনো ব্যক্তি নাই যার সকল কথাই গ্রহণীয় বা বর্জনীয়,একমাত্র রাসূলূল্লাহ(সা)ব্যতীত"(8)
           
ইমাম শাফেঈ(রহঃ)-এর নিষেধাজ্ঞাঃ
1."যদি তোমরা আমার বইয়ে রাসূল(সা)-এর সুন্নাহ বিরোধী কিছু পাও,তাহলে রাসূল (সা)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী বল এবং আমার কথাকে প্রত্যাখান কর"
......"তোমরা রাসূল(সা)-এর কথাই অনুসরণ কর এবং অন্য কারো কথার দিকে  দৃকপাত কর না"(9)
2."আমি যেসব কথা বলেছি, তা যদি রাসূলূল্লাহ(সা)-এর ছহীহ হাদীসের বিপরীত হয়,তবে রাসূল(সা) -এর হাদীসই অগ্রগণ্য।অতত্রব তোমরা আমার "তাক্বলীদ " কর না "(10)
3."রাসূলূল্লাহ (সা)-এর প্রত্যেকটি হাদীসই আমার কথা,যদিও আমার থেকে তোমারা তা না শুনে থাকে"(11)
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল(রহঃ)-এর নিষেধাজ্ঞাঃ
1."তুমি আমার তাক্বলীদ কর না এবং তাক্বলীদ কর না মালিক, শাফেঈ,আওযাঈ,ছাওরীর।রবং তারা যে উৎস থেকে গ্রহণ করছেন,সেখান থেকে তোমরাও গ্রহণ কর"(12)
2."যে ব্যক্তি রাসূল(সা)-এর হাদীছকে প্রত্যাখান করল,সে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেল"(13)
ইমাম রাযি(রহঃ)বলেনঃ
"শয়তানী ধোঁকা অনুসরণ করা ও তাক্বলীদ করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই"(14)
শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়্যহ বলেনঃ
"আর ইমামগন অর্থাৎ ইমাম আবু হানীফা,ইমাম মালিক,ইমাম শাফেঈ ও ইমাম আহমদ বিন(রহঃ)সকলেই তাদের তাক্বলীদ করতে নিষেধ করেছেন"(15)
ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম(রহঃ)বলেনঃ
"শারঈ বিষয় অজ্ঞ ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট কোনো মাযহাবের তাক্বলাদ করা সিদ্ধ নয়,যদিও তারা তা করে থাকে"(16)
কামাল বিন হুমান হানাফী(রহঃ)বলেনঃ
"ছহীহ মতে নির্দিষ্ট কোন মাযহাবের অন্ধ অনুসরণ করা অপরিহার্য নয়।কেননা তার (মাযহাবের)অন্ধ অনুসরণ করা অপরিহার্য করা হয়নি"(17)
শায়খ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায বলেনঃ
"চার মাযহাবের কোন এক মাযহাবের 'তাক্বলীদ করা ওয়াজীব মর্মে 'প্রচলিত কথাটি নিঃসন্দেহে ভুল;বরং চার মাযহাবসহ অন্যদের তাক্বলীদ করা ওয়াজীব নয়।কেননা করআন ও সুন্নাহের ইত্তেবা করার মধ্যেই হক নিহিত আছে,কোন ব্যক্তি তাক্বলীদের মধ্যে নয়"(18)
Reference.............

(1)হাশিয়াহ ইবনে আবেদীন ১/৬৩পৃঃ;রাদ্দুল মুহতাব ১/৪৬২ পৃঃ,নাসিরুদ্দীন আলবানী,ছহীহ আত-তিরমিযী মুক্কাদামা ৪২পৃঃ;
(2)তদেব ৬/২৯৩পৃঃ;
(3)ড.অছিউল্লাহ বিন মহাম্মাদ আব্বাস, আত তাক্বলীদ ওয়া হুকমুহু ফী যুইল কিতাব ওয়াস-সুন্নাহ পৃঃ২০;
(4)তদের;
(5)তদেব;
(6)ছালেহ ফুলানী, ইক্বাযু হিমাম পৃঃ৫০;
(7)ইমাম ইবনে হাযম,আল-ইহকাম ফী উছূলিল আহকাম ৫/১৪৯পৃঃ;
(8)আল-ইহকাম ফী উছূলিল আহকাম ৫/১৪৫পৃঃ;
(9)ইমাম নববী,আল মাজমূ ১/৬৩পৃঃ;
(10)ইবনে আবে হাতীম ৯৩ পৃঃ,সনদ ছহীহ;
(11)তদেব;
(12)ই'লামুল মু'ওয়াক্কিন'ঈন ২/২০৩পৃঃ;
(13)নাসীরুদ্দীন আলবানী, মুক্কাদামাতু ছিমাতি ছালাতিন নাবী(ছাঃ)৪৫-৪৬পৃঃ;
(14)তাফসীরুল কাবীর ৫/৭পৃঃ,'আহলে হাদীস আন্দোলন উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ 'দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষিতসহ, ১৫৩-১৫৪পৃঃ;
(15)ইমাম ইবনে তায়মিয়্যহ, মাজমুউ ফাতাওয়া ২০/২০
২১০-২২৬ পৃঃ;
(16)ইবনুল কাইয়িম, ই'লামুল মুক্কাওয়া'ঈন ৬/২০৩-২০৫ পৃঃ;
(17)আল-মাছূমী,হাদিয়্যাতুস সুলতান ৫৬পৃঃ;
(18)শায়খ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায,মাজমূ'ফাতাওয়া ৩/৭২ পৃঃ

মঙ্গলবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আহলে হাদীছ!

                                  আহলে হাদীছ




ইমাম বুখারীর উস্তাদ আলী ইবনু মাদানী(১৬১-২৩৪হিঃ)ঘোষণা করেন

,'মুক্তিপ্রাপ্ত দল হলো আহলে হাদীছ"-এর দল।যারা রসূলের বিধাম সমূহ হেফাযত করেন ও তার ইলম কুরআন হাদীছ পক্ষে প্রতিরোধ করে।নইলে মূ'তাযিলা,রাফেযী(শী'আ),জাহমিয়া ও আহ্লুর রায়দের নিকট থেকে আমরা কিছুই আশা করেতে পারে না।(1)

ইমাম আবূ দাঊদ(২০৪-২৭৫হিঃ)বলেনঃ
"আহলেহাদীছগণ যদি না থাকত, তা'হলে ইসলাম দুনিয়া থেকে মিটে যেত(2)

মুহাদ্দিছ খতীব বাগদাদী(৩৯২-৪৬৩হিঃ)অন্যান্যদের সাথে আহলে হাদীছদের পার্থক্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ
"প্রত্যেক দলই প্রবৃত্তির অনুসরণ করে ও তার দিকে প্রত্যাবর্তন করে অথবা নিজস্ব মতামতকে উত্তম মনে করে এবং তার উপরেই অটল থাকে ;কেবল"আহলেহাদীছগণ"ব্যতীত।কারণ আল কুরআন তাদের হাতিয়ার, সুন্নাহ তাদের দলীল,রাসূল তাদের দলনেতা এবং তার দিকেই তাদের সম্বন্ধ।তারা মনোবৃত্তির উপর বিচরণ করে না এবং রায়ের দিকেও ভ্রক্ষেপ করে না(3)

আব্দুল কাহীর বাগদাদী(মৃঃ৪২৯হি)বলেনঃ

"রুম সীমান্ত, আলজেরিয়া, সিরিয়া, আযারবাইজান,মধ্য তুর্কিস্তান প্রভৃতি এলাকা সকল মুসলিম অধিবাসী "আহলেহাদীছ"মাযহাবের উপরে ছিলেন। তেমনি আফ্রিকা, স্পেন,ও পশ্চিম সাগরের পশ্চাদবর্তী দেশসমূহের সকল অধিবাসী "আহলেহাদীছ" ছিলেন
একইভাবে আবিসিনিয়ার উপকূলবর্তী ইয়ামানের সকল অধিবাসী "আহলেহাদীছ"ছিলেন।তবে তুরস্ক চীন অভিমুখী মধ্য তুর্কিস্তান সীমান্তের অধিবাসীদের মধ্য দুটি দল ছিল:একদল শাফেঈ ও আরেকদল ইমাম আবূ হানীফার অনুসারী"(4)

শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী বলেনঃ
"মুক্তিপ্রাপ্ত দল হলো আহলে হাদীছ"-আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের তাদের সাথে একত্রিত করুন!............. "আহলেহাদীছরাই সেই বিজয়ী কাফেলা এবং নাজাতপ্রাপ্ত ;বরং শ্রেষ্ঠ উম্মত যারা মানবজাতির উপর হবে সাক্ষী স্বরূপ"(5)

Reference...........
(1)শারফু আছহাবিল হাদীছ পৃঃ৫,১৫,৩৩ ও ২৯;
(2)শারফু আছহাবিল হাদীছ পৃঃ৩৩;
(3)শারফু আছহাবিল হাদীছ পৃঃ২৯;
(4)কিতাবু উছুলিদ্দীন ১/৩১৭পৃঃ;
(5)সিলসিলা ছহীহাহ ১/৪৮২পৃঃহা/২৭০-এর আলোচনা দ্রঃ।

রবিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

ঈসা(আ) কে!


অপমান করেছে                             ঈসা(আ) কে! 



খৃস্টানদের মধ্যে প্রচলিত ইঞ্জিল শরীফ ঈসা (আ)-কে অত্যন্ত অবমানাকরভাবে চিত্রিত করেছে। যেমন, তিনি মানুষদেরকে গালি দিতেন (মথি ১৬/২৩, ২৩/১৩-৩৩), অন্য বংশ বা ধর্মের মানুষদের শূকর ও কুকুর বলতেন (মথি ৭/৬; ১৫/২২-২৮, মার্ক ৭/২৫-২৯), পূর্ববর্তী নবীদেরকে চোর-ডাকাত বলতেন (যোহন ১০/৭-৮), নিরপরাধ মানুষদেরকে অভিশাপ দিতেন (মথি ২৩/৩৫-৩৬), অকারণে হত্যা করতেন (মথি ২১/১৮-২১, মার্ক ৫/১০-১৪; ১১/১২-২২), অবিশ্বাসীদেরকে নির্বিচারে ধরে ধরে জবাই করার নির্দেশ দিতেন (লূক ১৯/২৭), মিথ্যা বলতেন (মথি ১৬/২৭-২৮: ১৯/২৮: মার্ক ২/২৫-২৬, ১১/২৩, ১৬/১৭-১৮: লূক ১৮/২৯-৩০, যোহন ৩/১৩), মদ পান করে মাতাল হতেন (লূক ৭/৩৪-৫০, যোহন ১৩/৪-৫), বেশ্যা মেয়েদেরকে তাঁকে স্পর্শ করতে ও চুম্বন করতে দিতেন (লূক ৭/৩৪-৫০, ৮/১-৩, যোহন ১১/১-৫), নিজের মায়ের সাথে ভয়ঙ্কর বেয়াদবি করেছেন, (মথি ১২/৪৬-৫০; মার্ক ৩/৩১-৩৫; লূক ৮/১৯-২১, যোহন ২/৪, ১৯/২৬), তিনি অত্যন্ত ভীত ও কাপরুষ ছিলেন (মথি ২৬/৩৬-৪৬, ২৭/৩৮-৫১; লূক ২২/৪১-৪৬, মার্ক ১৫/২৭-৩৮)। সাধু পল ও তাঁর অনুসারীরা ঈসা (আ)-কে ‘মালউন’ বা অভিশপ্ত বলে দাবি করেছেন। (গালাতীয় ১০-১৩)। (নাঊযু বিল্লাহ!)

শনিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৮

সূরা বাক্বারাহ'র একটি আয়াত সম্পর্কে কিছু হাদীস!

                               সূরা বাক্বারাহ'র একটি আয়াত সম্পর্কে কিছু হাদীস!




সূরা আল-বাক়ারাহ ২:২২৩
نِسَآؤُكُمْ حَرْثٌ لَّكُمْ فَأْتُوا۟ حَرْثَكُمْ أَنَّىٰ شِئْتُمْۖ وَقَدِّمُوا۟ لِأَنفُسِكُمْۚ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّكُم مُّلَٰقُوهُۗ وَبَشِّرِ ٱلْمُؤْمِنِينَ
তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্য ক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর। আর নিজেদের জন্য আগামী দিনের ব্যবস্থা কর এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাক। আর নিশ্চিতভাবে জেনে রাখ যে, আল্লাহর সাথে তোমাদেরকে সাক্ষাত করতেই হবে। আর যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সুসংবাদ জানিয়ে দাও।
কুরআন অ্যাপ পেতে :https://goo.gl/w6rESk
হাদীস নংঃ১
জাবির(রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,ইহুদীরা বলতো, যদি স্বামী স্ত্রীর পিছন দিক দিয়ে তা সম্মুখভাগে সহবাস করে তাহলে সন্তান ট্যারা হবে।অতঃপর"তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের শস্যক্ষেত্র।তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদের ব্যবহার করো-(সূরা বাক্বারাহ ২:২২৩)এই আয়াত অবতীর্ণ হয়।রসূলুল্লাহ(সা) তারপর বললেন,সম্মূখ ও পিছন উভয় দিক দিয়ে করা যাবে যদি তা লজ্জাস্থান হয়(1)
হাদীস নংঃ২
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,আনসারী মূর্তি পুজকদের এই গোত্রটি ইয়াহূদী আহলে কিতাবদের এ গোত্রের সাথে বসবাস করত।আর আনসানগণ জ্ঞানের দিক দিয়ে ইয়াহূদীদের অনেক ক্ষেত্রেই অনুসরণ করত।আর আহলে কিতাবদের একটা অভ্যাস ছিল যে, তারা শুধুমাত্র তাদের স্ত্রীদের এক দিক দিয়েই সহবাস করতো,আর স্ত্রীরা তার দ্বারা সবচেয়ে বেশি আবৃত হতো।সুতরাং আনসারদের এই গোত্রটি ইয়াহূদীদের ঐ কাজটি গ্রহণ করেছিল।আর কুরাইশদের এই গোত্র তাদের মহিলাদের নিকৃষ্টভাবে খোলাখুলি করতো,এবং তাদের সস্মুখ দিয়ে, পিছন দিয়ে,চীৎ করে উপভোগ করতো।অতঃপর মহাজিরগণ যখন মদীনায় আগমন করলেন,তখন একজন কুরাইশী ব্যাক্তি আনসারী এক মহিলাকে বিবাহ করলেন।সে তার স্ত্রীর কাছে তাদের নিয়মে কাজ করলেন।কিন্তু মহিলা খারাপ মনে করলেন,এবং বললেন আমাদেরকে শুধুমাত্র একদিক দিয়েই সহবাস করা হয়।সুতরাং তুমি তাই কর নতুবা আমার থেকে দূরে থাক।এমন কি তার ব্যাপারটি বিকট আকার ধারণ করল,শেষ পর্যন্ত আল্লাহ রসূল(সা)-এর নিকট সংবাদ পৌঁছাল।অতঃপর আল্লাহ এই আয়াত টি নাযিল করলেন" তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের শস্যক্ষেত্র।তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদের ব্যবহার করো"-(সূরা বাক্বারাহ ২:২২৩)অর্থাৎ সম্মুখ করে, পিছন করে, চীৎ করে।মূল উদ্দেশ্য তার দ্বারা সন্তান হওয়ার স্থান যেন হয়(2)
হাদীস নংঃ৩
উম্মু সালামাহ (রা) বর্ণিত।তিনি বলেন,মুহাজিরগণ যখন মদীনায় আনসারদের নিকট আগমন করলেন তখন তাদের মহিলাদের বিবাহ করলেন।আর মুহাজির মহিলারা চীৎ হতো, কিন্তু আনসারী মহিলারা চীৎ হতো না। একদা এক মহাজির ব্যক্তি তার আনসারী স্ত্রীকে এরূপ ইচ্ছা করল,কিন্তু সে আল্লাহ ও রসূল কে জিজ্ঞাসা না করা পর্যন্ত তা করতে অস্বীকৃতি জানাল,রাবী বলেন সেই মহিলা  রসূল(সা)-এর নিকট আসল, কিন্তু জিজ্ঞাসা করতে লজ্জাবোধ করল। তাই উম্মু সালামাহ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন অতঃপর "
তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের শস্যক্ষেত্র।তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদের ব্যবহার করো"-(সূরা বাক্বারাহ ২:২২৩)আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। তিনি বললেন না, শুধুমাত্র এক রাস্তায় সহবাস করা যাবে(3)
Reference...........
(1)বুখারী ৮/১৫, মুসলিম ৪/১৫৬, নাসাঈ৭৬/১-২, ইবনু আবী হাতিম ৩৩৯/১, মাহমুদিয়া ৮/৭৯/১,
জুরজানী ২৯৩/৪৪০, বাইহাকী ৭/১৯৫,
ইবনু আসাকির ৮/৯২/২ ও ওয়াহিদী ৫৩,
আর ওয়াহিদী বলেন-শাইখ আবূ হামিদ বিন শারকী বলেন,এটা এমন মহীয়ান হাদীস যা একশ হাদীসের সমতুল্য।
(2)আবূ দাউদ ১/১৩৭, হাকিম ২/১৯৫/২৭৯,
বাইহাকী ৭/১৯৫, ওয়াহিদের আসবাব ৫২,
ইমাম খাত্তাবীর গরীবুল হাদীস ৭৩/২, তার সনদ হাসান।ইমাম হাকিম মুসলিমের শর্তানুযায়ী তাকে সহীহ বলেছেন।আর ইমাম যাহাবী তাকে সমর্থ দান করেন।ত্বাবারানী নিকট (৩/১৮৫পৃঃ)সংক্ষিত অপর একটি সূত্র রয়েছে।আরো দেখুনঃআদাবুয যিফাফ১/৩২পৃঃশাইখ আলবানী(রঃ)।

(3)মুসনাদে আহমদ (৬/৩০৫/৩০২-৩১৮পৃঃ)।তিরমিযী ৩/৭৫পৃঃ, ও তিনি তাকে সহীহ বলেছেন এবং
আবূ ইয়ালা ৩২৯/১পৃঃইবনু আবী হাতিম তার তাফসীরে মুহাম্মাদীয়া ৩৯/১পৃঃও ইমাম বাইহাকী ৭/১৯৫পৃঃ বর্ণনা করেছেন।
আর তার সানাদ মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ। আদাবুয যিফাফ ১/৩৩পৃঃ শাইখ আলবানী (র)।

বিজ্ঞান কি সৃষ্টিকর্তাকে ব্যাখ্যা করতে পারে?

                        বিজ্ঞান কি সৃষ্টিকর্তাকে ব্যাখ্যা করতে পারে?

না তা পারে না
ডার্ক এনার্জির ধারণা আবিষ্কারের জন্য ২০১১ সালে নোবেল পুরস্কার  পাওয়া টিমের একজন, প্রফেসর অ্যালেক্সে ফিলিপ্পেনকো এক সাক্ষাতকারে বলেন,
“… আমি মহাবিশ্বকে একজন বিজ্ঞানীর দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করতে চাই … কোন অতিমানবিক বা স্বকীয় স্রষ্টা আছেন কিনা বা এই মহাবিশ্বের কোন উদ্দেশ্য আছে কিনা সে বিষয়ে আমি কিছু বলব না – এই প্রশ্নগুলোর উত্তর বিজ্ঞানীরা দিতে পারে না…।” (1)
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের National Academy of sciences এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছেঃ
"প্রাকৃতিক মহাবিশ্বকে জানার জন্য বিজ্ঞান ব্যবহার করা  হয়।প্রাকৃতিক কারণে আলোকে প্রাকৃতিক মহাবিশ্ব ব্যাখ্যা করা পর্যন্তই বিজ্ঞানের সীমারেখা।অতিপ্রাকৃত ব্যাপার নিয়ে বিজ্ঞানের বলার কিছু নেই।সুতরাং ঈশ্বর আছে কি নেই, এমন প্রশ্ন করা বিজ্ঞানে অবান্তর,যতক্ষণ পর্যন্ত  বিজ্ঞান তার নিরপেক্ষতা ধরে রাখে।"(2)
ধর্মবেত্তা ডেভিড মার্শাল বলেন:
"এই নব্য নাস্তিকরা বাস্তবতার বিভিন্ন দিক একেবারেই বুঝতে পারে না।প্রথমত, বোকা নাস্তিকদের বিজ্ঞানের সীমারেখা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই।দ্বিতীয়ত,তাদের তত্ত্বগুলো অসং্খ্যা বাস্তবতাকে সরাসরি উপেক্ষা করে।
তৃতীয়ত,গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেসা করা থেকে তারা সবসময় নিজেদের বিরত রাখে।চতুর্থত, তাদের তত্ত্বকে ভরাডুমির হাত থেকে বাঁচাতে তারা চমৎকার এক ছলনার আশ্রয় নেয়।সেই ছলনা হলো-"মনে করি"(3)
জন হুট বলেনঃ
"বিবর্তন মানুষের অনুভব করার ক্ষমতাকে ব্যাখ্যা করতে পারে না।আমাদের বিভিন্ন বিষয় অনুভবের ক্ষমতা দেখলে বোঝা যায় বিবর্তন ছাড়াও অন্য এক শক্তি আমাদের উপর কাজ করছে, যার ফলে আমরা চিন্তা করতে পারে যার ফলে আমাদের মন অন্য সবার থেকে আলাদা"(4)

Reference...........
(1)Scientists only understand 4% of universe’ Retrieved from: https://www.rt.com/news/universe-physics-laws-energy-329
(2)National Academy of sciences,Teaching about Evolotion and the nature of science (Washington, DC:National Academy of sciences,1998)page:58
http://www.nap.edu/catalog/5787.html
(3)David Marshal, The truth brhind the new Atheism, Eugene,Or:Harvest House,2007
অবিশ্বাসের দর্শন পৃঃ৪০
(4)John F.Haught,God and the new Atheism, Westminster John Knox press,2007 P.46

রায়হান আবীর ও অভিজিৎ রায়ের মিথ্যাচার?

রায়হান আবীর ও অভিজিৎ রায়ের মিথ্যাচার?




















 তাদের দু'জনের লিখিত বইয়ের মধ্যে এই কথা গুলো লেখা আছেঃ "জীববিজ্ঞানের মতো বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার গবেষণা থেকে এটি স্পষ্ট বোঝা গেছে। গাছ থেকে আপেল পড়ার মতোই বিবর্তন বাস্তব -এ নিয়ে আর কোনো সন্দেহ নেই"(1) আসুন আমরা দেখে তাদের দাবির সত্যতা: ডারউইনের বিবর্তনবাদ ডারউইনের বিবর্তনবাদ অনুসারে একজন আদি পিতা ও মাতা—যারা ঠিক আজকের মানুষের মতো মানুষ ছিলেন না—বিশেষ কোনো জেনেটিক মিউটেশনের কারণে তারা প্রথম একজন আধুনিক মানব শিশুর জন্ম দেন। এটি দৈব চক্রে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা মাত্র: এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য নেই, কোনো সৃষ্টিকর্তার হাত নেই। প্রকৃতির হাজার খেলার মধ্যে এটি ছিল একটি খেলা। এই একই প্রক্রিয়ায় পৃথিবীতে সকল প্রাণের উদ্ভব হয়েছে। বিবর্তনবাদ অনুসারে প্রাণের সৃষ্টি হয়েছে দৈব চক্রে। কোনো কারণে ৩.৬ বিলিয়ন বছর আগের আদি পৃথিবীতে, কোনো এক জায়গার কাদা মাটিতে কিছু অজৈব পদার্থ কাকতালীয়ভাবে একসাথে মিশে প্রথম অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি করে। এরকম অনেকগুলো অ্যামাইনো অ্যাসিড কোনো কাকতালীয় কারণে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে একসাথে হয়ে প্রোটিন তৈরি হয়। তারপর কয়েকটি বিশেষ প্রোটিন কোনো কাকতালীয় কারণে একসাথে হয়ে ডিএনএ তৈরি হয় এবং তারপর সেখান থেকে আরও বিরাট কোনো কাকতালীয় কারণে প্রথম এককোষী প্রাণীর সৃষ্টি হয়। সেই এককোষী প্রাণীরা বহু বছর ধরে বিবর্তিত হয়ে একসময় কোনো কারণে বহুকোষী প্রাণীতে পরিণত হয়। তার বহু বছর পরে সেই বহুকোষী প্রাণীরা বিবর্তিত হয়ে আরও জটিল জলচর প্রাণীতে পরিণত হয়। তারপর সেই জলচর প্রাণীগুলো একসময় হাত-পা গজিয়ে ডাঙায় উঠে এসে নানা ধরনের স্থলচর প্রাণীতে পরিণত হয়। এরপর সেই স্থলচর প্রাণীগুলো কোটি কোটি বছর ধরে বিবর্তিত হয়ে একসময় গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগির মতো প্রাণীতে পরিণত হয়। এবং সবশেষে একই প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে বানরররূপী আদিমানব থেকে উদ্ভব হয়েছে আধুনিক মানুষের। এখানে লক্ষ্য করুন এই গোটা প্রক্রিয়ায় কতগুলো কাকতালীয় ব্যাপার রয়েছে। এই প্রতিটি কাকতালীয় ঘটনা ঘটার সম্ভাব্যতা হচ্ছে কমপক্ষে কোটি কোটি কোটি সম্ভাবনার মধ্যে একটি। যেমন ৩০০ অণু দিয়ে গঠিত একটি প্রোটিন তৈরি হবার সম্ভাবনা হচ্ছে ১০৩৯০ এর মধ্যে একটি। ১০ এর পরে ৩৯০টি শূন্য দিলে যে বিরাট সংখ্যা হয় ততগুলো সম্ভাবনার মধ্যে একটি। যার অর্থ হচ্ছে— এটা গাণিতিক ভাবে দেখলে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বিবর্তনবাদ কি আসলেই কোনো প্রমাণিত বিজ্ঞান? বিবর্তনবাদ যদি সত্যি হতো তাহলে— ১) আমরা এক প্রাণী থেকে অন্য প্রাণীতে বিবর্তিত হওয়ার সময়, তার মাঝামাঝি অবস্থার অনেক নিদর্শন প্রকৃতিতে দেখতে পারতাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা যে লক্ষ লক্ষ ফসিল পেয়েছি, তার কোথাও কোনোদিনও এক প্রাণী থেকে অন্য প্রাণীতে বিবর্তিত হওয়ার সময় মাঝামাঝি অবস্থার কোনো প্রাণী দেখা যায়নি।[1] যেমন এখনও পর্যন্ত এমন কোনো বানর বা গরিলার ফসিল পাওয়া যায়নি—যেটার মাথা ছিল মানুষের মতো, বা যেটার গায়ের লোম মানুষের মতো একদম ছোট, বা যেটার হাত মানুষের হাতের মতো—যেগুলো দেখে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, গরিলা বা বানর থেকে ধীরে ধীরে বিবর্তন হয়ে মানুষ এসেছে। ২) প্রাণীদের মধ্যে সূক্ষ্ম বিবর্তনের (Microevolution) নিদর্শন মিললেও বড় ধরনের বিবর্তনের কোনো প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি, যেখানে এক প্রজাতির প্রাণী বিবর্তিত হয়ে আরেক প্রজাতির প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। Macroevolution-এর পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। বিজ্ঞানিরা গবেষণাগারে মাছির বিবর্তন করার চেষ্টা করেছিলেন। অনেক চেষ্টার পরে দেখা গেল তিন ধরনের মাছি তৈরি হলো—১) আগে যেরকম ছিল সেরকমই, ২) মিউটেটেড বা বিকৃত, অথবা ৩) মৃত।[2] ২০১০ সালে একটি গবেষণায় মাছির ৬০০ প্রজন্ম পরীক্ষা করেও কোনো বিবর্তনের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।[3] একইভাবে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার ৪০,০০০ প্রজন্মের উপর বিবর্তনের চেষ্টা করেও বিবর্তনবাদের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।[4] সুতরাং অতীতেও বিবর্তন হয়ে একটি প্রজাতির প্রাণী অন্য প্রজাতির প্রাণীতে রূপান্তরের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, বর্তমানেও না। ৩) বিবর্তনবাদ দাবি করে যে, জেনেটিক মিউটেশনের মাধ্যমে প্রাণীদের মধ্যে বিবর্তন হয়ে উন্নততর এবং বেশি টেকসই প্রাণীর সৃষ্টি হয় এবং এইভাবেই আদি-মানুষ থেকে আধুনিক মানুষ এসেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় উলটো প্রমাণ পাওয়া গেছে। উদ্ভিদ এবং মানুষ উভয়েরই উপর গবেষণায় দেখা গেছে বেশিরভাগ মিউটেশনের ফলে দেহে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না। কিন্তু খারাপ মিউটেশন হয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে এবং এগুলো কোষের বংশপরম্পরায় টিকে থাকে। একে বলা হয় জেনেটিক এনট্রপি। প্রত্যেক মানুষ তার নিজের মিউটেশন এবং তার পূর্ব পুরুষদের মিউটেশন বহন করে এবং তারপর তার বংশধরের মধ্যে দিয়ে দেয়।[6] সাম্প্রতিক কালে হিউমেন জিনোম গবেষণার উন্নতির ফলে বিজ্ঞানীরা ২১৯ জন মানুষ এবং ৭৮ জন বাবা-মা এবং তাদের সন্তানদের মধ্যে গবেষণা করে দেখেছেন, প্রতি বংশ পরম্পরায় ৬০টি নতুন মিউটেশন যোগ হয়![8] বিবর্তনবাদীরা দাবি করে: ২.৪ মিলিয়ন বছর আগে, এক বানর/গরিলার কাছাকাছি দেখতে আদি মানুষ থেকে আধুনিক মানুষের উদ্ভব হয়েছে। যার অর্থ দাঁড়ায় এই পর্যন্ত মানুষের প্রায় ১২০,০০০ প্রজন্ম এসেছে। এখন প্রতি প্রজন্ম যদি ৬০টি মিউটেশন যোগ করে, তাহলে ১২০,০০০ প্রজন্মে আজকে মানুষের মধ্যে ৭,২০০,০০০ মিউটেশন থাকার কথা। এতো মিউটেশন হলে মানুষ আর মানুষ থাকত না, এবং অনেক আগেই মানব জাতি পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত। ৪) এক প্রজাতির প্রাণীর থেকে অন্য প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে ধাপে ধাপে বিবর্তন কখনও সম্ভব নয়। যেমন, সরীসৃপের দ্বিমুখী ফুসফুস কখনই পাখির একমুখী ফুসফুসে বিবর্তিত হতে পারে না। সেটা হতে হলে বিবর্তন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরীসৃপকে শ্বাস নেওয়া বন্ধ করে দিতে হবে—যেটা কেবল হাস্যকরই নয় বরং অযৌক্তিক। সুতরাং বিবর্তনবাদীরা যে-দাবি করে সরীসৃপ থেকে পাখির বিবর্তন হয়েছে, সেটা ভুল।[7] একইভাবে উভচর প্রাণীর তিন-কক্ষ-বিশিষ্ট হৃদপিণ্ড থেকে স্তন্যপায়ী প্রাণীর চার-কক্ষ-বিশিষ্ট হৃদপিণ্ডের বিবর্তন হওয়া কখনও সম্ভব নয়, কারণ সেটা হতে হলে প্রথমে উভচর প্রাণীর হৃদপিণ্ডের মধ্যে নতুন দেওয়াল সৃষ্টি হতে হবে, যা রক্ত চলাচল ব্যহত করবে, না হয় নতুন রক্তনালীর সৃষ্টি হতে হবে, যা রক্ত চলাচলকে ব্যহত করবে। এরকম অনেক প্রমাণ রয়েছে যা থেকে সহজেই দেখানো যায় যে, এক প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে ধীরে ধীরে বিবর্তন হয়ে অন্য প্রজাতির প্রাণী সৃষ্টি হওয়া সম্ভব নয়। কারণ বিবর্তনের সময় মাঝামাঝি যেই অবস্থাগুলো হতে হবে, সেগুলো প্রাণীর জন্য কোনোভাবেই কল্যাণকর নয়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে এইধরনের অর্ধেক বিবর্তন সেই প্রাণীর জন্য মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং বিবর্তনবাদ শুধুই একটি থিওরি। এর পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য ও যৌক্তিক প্রমাণ নেই। প্রকৃতিতে কী ধরনের বিবর্তন হয়? একটি ব্যাপার পরিষ্কার করা দরকার: Microevolution বা সূক্ষ্ম-বিবর্তন অবশ্যই প্রকৃতিতে হয়। এবং সেটা হয় একই প্রজাতির মধ্যে, অল্প কিছু জেনেটিক পরিবর্তন থেকে। আর এভাবেই একসময় উপ-প্রজাতির সৃষ্টি হয়।[9] কিন্তু এই সূক্ষ্ম বিবর্তন হতে হতে একসময় Macroevolution বা স্থুল-বিবর্তন হয়ে এক প্রজাতির প্রাণী সম্পূর্ণ অন্য প্রজাতির প্রাণীতে পরিণত হয় না—যেটা বিবর্তনবাদীরা প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে এটা নিয়ে বিবর্তনবাদীদের মধ্যেই দ্বিমত রয়েছে।[10] কাজেই বলা যায়, বানরের মধ্যে সূক্ষ্ম বিবর্তন হয়ে বিভিন্ন প্রজাতির বানর তৈরি হয়, কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত বানরই থাকে; মানুষ হয়ে যায় না। বিবর্তনের টেক্সট বইগুলোতে বিবর্তনবাদের পক্ষে যে সব উদাহরণ দেখানো হয়— যেমন ডারউইনের পাখির ঠোটের ‘বিবর্তন’, ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার ‘বিবর্তন’ হয়ে এন্টিবায়োটিকের প্রতি রেজিস্টেন্স, এইচআইভি ভাইরাসের ‘বিবর্তন’—এগুলো সবই হয় একই প্রজাতির মধ্যে। পাখি বিবর্তনের পরে পাখিই থাকে, ব্যাকটেরিয়া শেষ পর্যন্ত ব্যাকটেরিয়াই থাকে।[11] অতএব তাদের দাবি মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়। " হে বিবর্তনবাদীরা: আপনারা যারা এই আর্টিকেল পড়ে কমেন্ট করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে যাচ্ছেন, অনুগ্রহ করে আপনার এবং আমার সময় নষ্ট করবেন না। আপনার যা বলার উপরের এই রেফারেন্সগুলোর লেখকদেরকে বলুন"




 Reference..............

 [1] Appendix in Morris, J. and F. Sherwin. 2009. The Fossil Record. Dallas, TX: Institute for Creation Research.

[2] Nüsslein-Volhard, C. and E. Wieschaus. 1980. Mutations affecting segment number and polarity in Drosophila. Nature. 287 (5785): 795-801.

[3] Burke, M. K. et al. 2010. Genome-wide analysis of a long-term evolution experiment with Drosophila. Nature. 467 (7315): 587-590.

[4] Barrick, J. E. et al. 2009. Genome evolution and adaptation in a long-term experiment with Escherichia coli. Nature. 461 (7268): 1243- 1247.

 [5] Some bacteria began to access citrate for food. However, the new function probably resulted from loss-of-information mutations. See Behe, M. J. 2010. Experimental Evolution, Loss-of-Function Mutations and “The First Rule of Adaptive Evolution.” The Quarterly Review of Biology. 85 (4): 419-445.

[6] Sanford, J. 2008. Genetic Entropy & the Mystery of the Genome. Waterloo, NY: FMS Publications.

[7] Thomas, B. Do New Dinosaur Finger Bones Solve a Bird Wing Problem? ICR News. Posted on icr.org July 9, 2009, accessed March 9, 2012.

[8] Kong, A. et al. 2012. Rate of de novo mutations and the importance of father’s age to disease risk. Nature. 488 (7412): 471-475.

 [9]  Leonard, B. Critical Analysis of Evolution — Grade 10. Draft Reflecting Changes Made at March 2004 State Board of Education Meeting, page 314. Ohio Department of Education. Available online at www.texscience.org.

 [10] Allaby, M. (ed.) 1992. The Concise Oxford Dictionary of Zoology. New York: Oxford University Press.


[11] http://www.icr.org/article/7165/

বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৮

"তাওহীদ পাবললিকন্স"এর তথ্য বিভ্রান্তি?

"তাওহীদ পাবললিকন্স"এর তথ্য বিভ্রান্তি?
বিভ্রান্তিঃ১
আমি খুবই আর্শ্চয হয়েছে যখন দেখেছে "তাওহীদ পাবলিকেন্স" এর বুখারীতে নিজেদের পক্ষে সাফায় গাইতে গেয়ে তারা সাহবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ(রা)নামে এক চরম তথ্য বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছে।নিচে দেওয়া হলোঃ
"সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ(রা) মুয়াব্বিযাতাইন- সূরাহ্ নাস ও ফালাক সূরাহ্দ্বয় কুরআনের অংশ নয় মনে করতেন"(19)উল্লেখ একই কথা বলা আছে আবূ দাঊদ গ্রন্থের অনুবাদে,টীকা সংযোজন করেছে আহসানুল্লাহ বিন সানাউল্লাহ(20)
এখানে এই বিষয়য় আলোচনা করা হলোঃ
মুয়াওয়িযাতাইন(সুরা ফালাক ও নাস) এর ব্যাপারে ইবন মাসউদ(রা) এর অবস্থানঃ
আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ(রা) যে সুরা ফালাক ও সুরা নাসকে কুরআনের অংশ বলে বিশ্বাস করতেন—এই কথার পেছনে বেশ কিছু শক্তিশালী প্রমাণ রয়েছে।
১।স্বয়ং ইবন মাসউদ(রা) থেকে মুয়াওয়িযাতাইন এর বিবরণঃ
আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ(রা) থেকে সুরা ফালাক ও সুরা নাস এর মর্যাদার বর্ণণা পাওয়া যায়।
عن ابن مسعود قال: استكثروا من السورتين يبلغكم الله بهما في الآخرة المعوذتين
ইবন মাসউদ(রা) থেকে বর্ণিতঃ “দুইটি সুরা বেশি করে পড়ো, আল্লাহ এর জন্য আখিরাতে তোমাদের মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন।আর তারা হচ্ছেঃ আল মুয়াওয়িযাতাইন(সুরা ফালাক ও সুরা নাস)।” [৪]
এটা কী করে সম্ভব হতে পারে যে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ(রা) সুরা ফালাক ও সুরা নাসের মর্যাদা বর্ণণা করবেন, অথচ এই সুরাদ্বয়কে কুরআনের অংশ বলে মনে করবেন না তথা এদের অস্তিত্ব অস্বীকার করবেন? সুবহানাল্লাহ; ইসলামবিরোধীদের অভিযোগের অসারতা এই রেওয়ায়েতের দ্বারা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠছে।
২। ইবন মাসউদ(রা) থেকে বর্ণিত সকল কিরাতে মুয়াওয়িযাতাইন এর উপস্থিতিঃ
প্রাচীন যুগ থেকেই কুরআন সংরক্ষণের প্রধানতম মাধ্যম ছিল হাফিজগণের স্মৃতি। আল্লাহ তা’আলা প্রিয় নবী (ﷺ)কে বলেনঃ
وأنزلت عليك كتابا لا يغسله الماء
“আমি তোমার উপর কিতাব নাজিল করেছি যা পানি দ্বারা ধুয়ে যাওয়া সম্ভব নয়” [৫]
{{ পানি দ্বারা সেই জিনিস ধুয়ে যাওয়া সম্ভব যা কাগজের উপর কালি দ্বারা লেখা হয়। যা স্মৃতিতে সংরক্ষিত থাকে, তার পক্ষে ধুয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।}}
মুসলিম কিরাত বিশেষজ্ঞগণ সবসময়েই কুরআনকে অবিচ্ছিন্ন বর্ণণাক্রম দ্বারা হিফাজত করেছেন যা স্বয়ং রাসুল(ﷺ) পর্যন্ত পৌঁছেছে।মুতাওয়াতির কিরাতগুলো কুরআনের সংরক্ষিত থাকবার একটি বড় প্রমাণ।
সকল মুতাওয়াতির কিরাতের মধ্যেই সুরা ফালাক ও সুরা নাস বিদ্যমান(এবং অবশ্যই সুরা ফাতিহাও সেগুলোতে রয়েছে।)।এই কিরাতগুলোর মধ্যে চারটি কিরাত রয়েছে, যেগুলোর বর্ণণাক্রম আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ(রা) থেকে রাসুল(ﷺ) পর্যন্ত পৌঁছেছে।
নিম্নে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ(রা) থেকে বর্ণণাকৃত কিরাতগুলোর ব্যাপারে সংক্ষিপ্তভাবে আলোকপাত করা হল।
ক) আসিম এর কিরাতঃ এর বর্ণণাক্রম যির থেকে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ(রা) থেকে মুহাম্মাদ(ﷺ) পর্যন্ত পৌঁছেছে।
উল্লেখ্য যে, উক্ত আসিম(মৃত্যু ১২৮ হিজরী) এবং যির(মৃত্যু ৮৩ হিজরী) মুসনাদ আহমাদ এর বর্ণণাকারীদের অন্তর্ভুক্ত।এই বর্ণণাকারীগণ থেকে এমন বিবরণ পাওয়া যায় যাতে বলা হয়েছে যে ইবন মাসউদ(রা) তাঁর মুসহাফে সুইটি সুরা(ফালাক ও নাস) উল্লেখ করেননি। অথচ তাঁদের থেকেই আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ(রা) এর সূত্রে যে কিরাত বর্ণিত হয়েছে, তাতে সুরা ফালাক ও সুরা নাস বিদ্যমান, আলহামদুলিল্লাহ।অতএব স্বয়ং বর্ণণাকারীগণ থেকে প্রমাণিত হল যে, মুসহাফে উল্লেখ না করলেও আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ(রা) এই সুরাদ্বয়কে কুরআনের অংশ হিসাবে তিলাওয়াত করতেন। [৬]
খ) হামজা এর কিরাতঃ এর বর্ণণাক্রম আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ(রা)এর সূত্রে নবী মুহাম্মাদ(ﷺ) পর্যন্ত পৌঁছেছে। [৭]
গ)আল কিসাই এর কিরাতঃ এর বর্ণণাক্রমও আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ(রা) থেকে মুহাম্মাদ(ﷺ) পর্যন্ত পৌঁছেছে। [৮]
ঘ) খালাফ এর কিরাতঃ এর বর্ণণাক্রমও আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ(রা) থেকে মুহাম্মাদ(ﷺ) পর্যন্ত পৌঁছেছে। [৯]
এই মুতাওয়াতির কিরাতগুলোর বর্ণাক্রমের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ(রা) রয়েছেন এবং কিরাতগুলোর প্রত্যেকটিতে সুরা ফাতিহা, সুরা ফালাক ও সুরা নাস রয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।এর ফলে সামান্যতম সন্দেহেরও আর অবকাশ রইলো না যেঃ সাহাবী আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ(রা) সুরা ফাতিহা, সুরা ফালাক ও সুরা নাসকে আল কুরআনের অংশ হিসাবে তিলাওয়াত করতেন।
কিছু বিপরীত বর্ণণা সম্পর্কে আলোচনাঃ
এবার আমরা কিছু রেওয়ায়েতের পর্যালোচনা করব যেগুলো ব্যবহার করে ইসলামবিরোধিরা অপপ্রচার চালায়।
বর্ণণা ১:
আবদাহ এবং আসিম যির থেকে বর্ণণা করেছেন, তিনি বলেনঃ
قلت لأبي: إن أخاك يحكهما من المصحف، قيل لسفيان: ابن مسعود؟ فلم ينكر
“আমি উবাই(রা)কে বলেছি, “আপনার ভাই ইবন মাসউদ(রা) সেগুলোকে(সুরা ফালাক ও নাস) তাঁর মুসহাফ থেকে মুছে ফেলেছেন”, এবং তিনি এতে কোন আপত্তি করলেন না।” [১০]
বিভ্রান্তি অপনোদনঃ
আমরা এই বর্ণণাটিতে দেখছি যে, ইবন মাসউদ(রা) সুরাগুলো মুছে ফেলেছেন শুনেও কুরআনের আলিম সাহাবী উবাই বিন কা’ব(রা) কোন আপত্তি বা প্রতিবাদ করছেন না।অথচ ইসলামের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত আকিদা হচ্ছেঃ কেউ যদি কুরআনের একটি আয়াতও অস্বীকার করে, তাহলে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায় এবং কাফির হিসাবে পরিগণিত হয়।অতএব ইবন মাসউদ(রা) যদি আসলেই সুরাদ্বয়কে কুরআনের অংশ হিসাবে মানতে অস্বীকার করতেন, তাহলে উবাই(রা) অবশ্যই কোন না কোন প্রতিক্রিয়া দেখাতেন। অথচ তিনি তেমন কিছুই করেননি।এ থেকে সুপষ্টভাবে প্রতিভাত হচ্ছে যেঃ উবাই(রা) এটা বুঝতে পেরেছিলেন যে ইবন মাসউদ(রা) উক্ত সুরাদ্বয়কে কুরআনের অংশ হিসাবে মানতে অস্বীকার করছেন না। শুধুমাত্র নিজ মুসহাফে উল্লেখ করেননিমাত্র।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হচ্ছেঃ যে আসিম ও যির এই রেওয়ায়েতের বর্ণণাকারী, তাঁরা স্বয়ং আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ(রা) এর সূত্রে বর্ণিত কিরাত থেকে সুরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠ করেছেন।
বর্ণণা ২:
عن عبد الرحمن بن يزيد، قال: كان عبد الله، ” يحك المعوذتين من مصاحفه، ويقول: إنهما ليستا من كتاب الله “
আব্দুর রহমান বিন ইয়াজিদ বর্ণণা করেছেনঃ ইবন মাসউদ(রা) মুয়াওয়িযাতাইন(সুরা ফালাক ও সুরা নাস)কে তাঁর মুসহাফ থেকে মুছে ফেলেছেন এবং বলেছেন এগুলো কুরআনের অংশ নয়। [১১]
একই বিবরণ ইমাম তাবারানী(র) এর মু’জামুল কাবিরেও এসেছে। [১২]
বিভ্রান্তি অপনোদনঃ
এই বর্ণণাটি সত্য হতে পারে না কেননা এটি একটি শাজ বা বিচ্ছিন্ন বর্ণনা যা শুধুমাত্র আব্দুর রহমান বিন ইয়াজিদ বর্ণণা করেছেন।হাদিস শাস্ত্রে মুতাওয়াতিরের বিপরীতে বিচ্ছিন্ন বর্ণণা দ্বারা কোন বিষয় প্রমাণিত হয় না।এমনকি ঐ বর্ণণার সনদ সহীহ হলেও।এক্ষেত্রে একে মু’আল্লাল বা ত্রুটিপূর্ণ বর্ণণা বলে। [১৩]
বিপরীত বর্ণণাগুলো সম্পর্কে উলামাগণের অভিমতঃ
ইমাম নববী(র) বলেনঃ
أجمع المسلمون على أن المعوذتين والفاتحة من القرآن وأن من جحد منها شيئا كفر وما نقل عن ابن مسعود باطل ليس بصحيح.
“এ ব্যাপারে মুসলিমগণের ইজমা রয়েছে যে মুয়াওয়িযাতাইন ও সুরা ফাতিহা কুরআনের অংশ এবং যে তা অস্বীকার করে সে কাফির হয়ে যায়।আর এ ব্যাপারে ইবন মাসউদ(রা) থেকে যা বর্ণিত আছে তা মিথ্যা এবং সহীহ নয়।”
[১৪]
আবু হাফস ইবন আদিল আল হাম্বালী(র) লিখেছেনঃ
هذا المذهب عن ابن مسعود نقل كاذب باطل
“ইবন মাসউদ(রা) এর থেকে বর্ণিত এই অভিমতটি মিথ্যা ও বানোয়াট।” [১৫]
আল খিফাজী(র) বলেনঃ
وما نقل عن ابن مسعود رضي الله عنه من أنّ الفاتحة والمعوّذتين ليست من القرآن لا أصل له
“আর, ইবন মাসউদ(রা) থেকে সুরা ফাতিহা ও মুয়াওয়িযাতাইন কুরআনের অংশ নয় মর্মে যা বর্ণিত হয়েছে তার কোন ভিত্তি নেই।” [১৬]
এছাড়া ইমাম ইবন হাজম(র) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। [১৭]
ইমাম সুয়ুতি(র) আবু বকর আল বাকিলানী(র) থেকে উদ্ধৃত করেছেনঃ
لم يصح عنه أنها ليست من القرآن ولا حفظ عنه. إنما حكها وأسقطها من مصحفه إنكارا لكتابتها لا جحدا لكونها قرآنا لأنه كانت السنة عنده ألا يكتب في المصحف إلا ما أمر النبي صلى الله عليه وسلم بإثباته فيه ولم يجده كتب ذلك ولا سمعه أمر به.
“এটি মোটেও তাঁর{ইবন মাসউদ(রা)} থেকে প্রমাণিত নয় যে এই সুরাদ্বয় কুরআনের অংশ নয়।কুরআনের অংশ হিসাবে অস্বীকার করে তিনি এই সুরাদ্বয়কে তাঁর মুসহাফ থেকে মোছেননি বা বাদ দেননি।তাঁর নিকট বিষয়টি এরূপ ছিল যে, তিনি নবী(ﷺ) এর নির্দেশ ব্যতিত কিছুই মুসহাফে লিখতেন না।এবং তিনি এ ব্যাপারে কিছু লিখিত পাননি বা এ ব্যাপারে কোন নির্দেশ শোনেননি। ” [১৮]
অতএব, উপরিউক্ত আলোচনা ও দলিল-প্রমাণ দ্বারা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হল যেঃ সাহাবী আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ(রা) এর বিরুদ্ধে ৩টি সুরাকে(ফাতিহা, ফালাক ও নাস) কুরআনের অংশ হিসাবে না মানার যে অভিযোগ তোলা হয় তা থেকে তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত এবং এই সম্মানিত সাহাবী অন্য সকল মুসলিমের ন্যায় একই কুরআন পাঠ করতেন।সেই সাথে উসমান(রা) কর্তৃক সংকলিত কুরআনের বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষীদের অভিযোগও মিথ্যা প্রমাণিত হল।
এবং আল্লাহ ভালো জানেন।
বিভ্রান্তিঃ২
" ফির‘আউনের মরদেহ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘আজ আমি তোমার দেহটি রক্ষা করব, যাতে তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হয়ে থাক’’- (সূরা হূদ ১১/৯২)। কয়েক বছর পূর্বে ফির‘আউনের দেহ সুউচ্চ পিরামিড থেকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তা কায়রোর যাদুঘরে রক্ষিত আছে"(21)
এখানে সব কিছুই ঠিক আছে কিন্তু রেফারেন্স ভুল দেওয়া হয়েছে সঠিক হবে সূরা ইউনুস ১০:৯২।
বিভ্রান্তিঃ৩
"আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একইভাবে বর্ণিত আছে। অর্থাৎ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বনী ইসরাঈল যদি না হত তবে গোশত দুর্গন্ধময় হতো না। আর যদি হাওয়া (আঃ) না হতেন তাহলে কোন নারীই স্বামীর খিয়ানত করত না।(22)

এই হাদীসের টীকায় লেখা আছেঃ* বনী ইসরাঈল আল্লাহ তা’আলার নিকট থেকে সালওয়া নামক পাখীর গোশত খাওয়ার জন্য অবারিতভাবে পেত। ‎তা সত্ত্বেও তা জমা করে রাখার ফলে গোশত পচনের সূচনা হয়। আর মাতা হাওয়া নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণে আদম ‎‎(‘আঃ)-কে প্রভাবিত করেন(23)
এখানে সবকিছুই বোধ হয় ঠিক আছে কিন্তু এখানে বলা হয়েছে"মাতা হাওয়া নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণে আদম ‎‎(‘আঃ)-কে প্রভাবিত করেন" এই কথাটা আমি মানতে পারছে না কারণ পবিত্র কুরআনের বা হাদীসের কোথাও এই কথা নেই।এই সম্পর্কে কুরআনের আয়ার নিম্নরূপ উল্লেখ এখানে কোথাও বলা হয়নি " আর মাতা হাওয়া নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণে আদম ‎‎(‘আঃ)-কে প্রভাবিত করেন"
আয়াত নিম্নরূপঃ
1.
وَقُلْنَا يَٰٓـَٔادَمُ ٱسْكُنْ أَنتَ وَزَوْجُكَ ٱلْجَنَّةَ وَكُلَا مِنْهَا رَغَدًا حَيْثُ شِئْتُمَا وَلَا تَقْرَبَا هَٰذِهِ ٱلشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ ٱلظَّٰلِمِينَ
এবং আমি আদমকে হুকুম করলাম যে, তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করতে থাক এবং ওখানে যা চাও, যেখান থেকে চাও, পরিতৃপ্তিসহ খেতে থাক, কিন্তু এ গাছের নিকটবর্তী হয়ো না। অন্যথায় তোমরা যালিমদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে পড়বে(24)
2.
فَأَكَلَا مِنْهَا فَبَدَتْ لَهُمَا سَوْءَٰتُهُمَا وَطَفِقَا يَخْصِفَانِ عَلَيْهِمَا مِن وَرَقِ ٱلْجَنَّةِۚ وَعَصَىٰٓ ءَادَمُ رَبَّهُۥ فَغَوَىٰ
অতঃপর তারা উভয়েই এর ফল ভক্ষণ করল, তখন তাদের সামনে তাদের লজ্জাস্থান খুলে গেল এবং তারা জান্নাতের বৃক্ষ-পত্র দ্বারা নিজেদেরকে আবৃত করতে শুরু করল। আদম তার পালনকর্তার অবাধ্যতা করল, ফলে সে পথ ভ্রষ্ঠ হয়ে গেল।(25)
3.
وَيَٰٓـَٔادَمُ ٱسْكُنْ أَنتَ وَزَوْجُكَ ٱلْجَنَّةَ فَكُلَا مِنْ حَيْثُ شِئْتُمَا وَلَا تَقْرَبَا هَٰذِهِ ٱلشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ ٱلظَّٰلِمِينَ
হে আদম তুমি এবং তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস কর। অতঃপর সেখান থেকে যা ইচ্ছা খাও তবে এ বৃক্ষের কাছে যেয়োনা তাহলে তোমরা গোনাহগার হয়ে যাবে।(26)
4.
فَوَسْوَسَ لَهُمَا ٱلشَّيْطَٰنُ لِيُبْدِىَ لَهُمَا مَا وُۥرِىَ عَنْهُمَا مِن سَوْءَٰتِهِمَا وَقَالَ مَا نَهَىٰكُمَا رَبُّكُمَا عَنْ هَٰذِهِ ٱلشَّجَرَةِ إِلَّآ أَن تَكُونَا مَلَكَيْنِ أَوْ تَكُونَا مِنَ ٱلْخَٰلِدِينَ
অতঃপর শয়তান উভয়কে প্ররোচিত করল, যাতে তাদের অঙ্গ, যা তাদের কাছে গোপন ছিল, তাদের সামনে প্রকাশ করে দেয়। সে বললঃ তোমাদের পালনকর্তা তোমাদেরকে এ বৃক্ষ থেকে নিষেধ করেননি; তবে তা এ কারণে যে, তোমরা না আবার ফেরেশতা হয়ে যাও-কিংবা হয়ে যাও চিরকাল বসবাসকারী।(27)
4.
فَوَسْوَسَ إِلَيْهِ ٱلشَّيْطَٰنُ قَالَ يَٰٓـَٔادَمُ هَلْ أَدُلُّكَ عَلَىٰ شَجَرَةِ ٱلْخُلْدِ وَمُلْكٍ لَّا يَبْلَىٰ
অতঃপর শয়তান তাকে কুমন্ত্রনা দিল, বললঃ হে আদম, আমি কি তোমাকে বলে দিব অনন্তকাল জীবিত থাকার বৃক্ষের কথা এবং অবিনশ্বর রাজত্বের কথা?(28)
5.
فَدَلَّىٰهُمَا بِغُرُورٍۚ فَلَمَّا ذَاقَا ٱلشَّجَرَةَ بَدَتْ لَهُمَا سَوْءَٰتُهُمَا وَطَفِقَا يَخْصِفَانِ عَلَيْهِمَا مِن وَرَقِ ٱلْجَنَّةِۖ وَنَادَىٰهُمَا رَبُّهُمَآ أَلَمْ أَنْهَكُمَا عَن تِلْكُمَا ٱلشَّجَرَةِ وَأَقُل لَّكُمَآ إِنَّ ٱلشَّيْطَٰنَ لَكُمَا عَدُوٌّ مُّبِينٌ
অতঃপর প্রতারণাপূর্বক তাদেরকে সম্মত করে ফেলল। অনন্তর যখন তারা বৃক্ষ আস্বাদন করল, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের সামনে খুলে গেল এবং তারা নিজের উপর বেহেশতের পাতা জড়াতে লাগল। তাদের প্রতিপালক তাদেরকে ডেকে বললেনঃ আমি কি তোমাদেরকে এ বৃক্ষ থেকে নিষেধ করিনি এবং বলিনি যে, শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।(29)
এখান থেকে বুঝা যায় শয়তান তাদেরকে প্রভাবিত করে বৃক্ষ খেতে কিন্তু হাওয়া (আ)আদম(আ)কে প্রভাবিত করে তা কিন্তু বলা হয়নি।তাই এটা একটা চরম তথ্য বিভ্রাট।
মুলত এটা "বাইবেল"এর কথা বাইবেল বলছেঃ
" সেই নারী দেখল গাছটা সুন্দর এবং এর ফল সুস্বাদু, আর এই ভেবে সে উত্তেজিত হল য়ে ঐ গাছ তাকে জ্ঞান দেবে| তাই নারী গাছটার থেকে ফল নিয়ে খেল| তার স্বামী সেখানেই ছিল, তাই সে স্বামীকেও ফলের একটা টুকরো দিল আর তার স্বামীও সেটা খেল|"(30)
  তাই এগুলো সংশোধন করা প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়,আমি আশা রাখে হবে ইনশাআল্লাহ।

Reference.............
[৪] আলী আল মুত্তাকী, কানজুল উম্মাল, (বৈরুতঃ আর রিসালাহ পাবলিকেশন্স, ১৯৮১) হাদিস নং ২৭৪৩
[৫] মুসলিম, আস সহীহ, (রিয়াদঃ মাকতাবা দারুস সালাম, ২০০৭) হাদিস ৭২০৭
[৬] আল জাযরী, আন নাশর ফি কিরাআত আল ‘আশার, (কায়রোঃ মাকতাবা আত তিজারিয়াহ আল কুবরা) খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৫৫
[৭] প্রাগুক্ত; খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৬৫
[৮] প্রাগুক্ত; খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৭২
[৯] প্রাগুক্ত; খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৮৫
[১০] আহমাদ বিন হাম্বাল, আল মুসনাদ, (বৈরুতঃ আর রিসালাহ পাবলিকেশনস, ২০০১) হাদিস নং ২১১৮৯
[১১] আহমাদ বিন হাম্বাল, আল মুসনাদ, হাদিস নং ২১১৮৮
[১২] আত তাবারানী, মু’জামুল কাবির, (কায়রোঃ মাকতাবা ইবন তাইমিয়া, ১৯৯৪) হাদিস নং ৯১৫০
[১৩] মু’আল্লাল বা ত্রুটিপূর্ণ বর্ণণার ব্যাপারে জানতে দেখতে পারেনঃ Ibn as-Salah, An Introduction to the Science of Hadith, Translated by Dr. Eerik Dickinson (Berkshire: Garnet Publishing Ltd., 2006) page 57 & 67
[১৪] আস সুয়ুতি, আল ইতকান, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৭১
[১৫] ইবন আদিল আল হাম্বালী, আল বাব ফি উলুমুল কিতাব, (বৈরুতঃ দারুল কুতুব আল ইলমিয়্যাহ, ১৯৯৮) খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৪৯
[১৬] আল খিফাজী, ইনায়া আল কাযি ওয়া কিফায়া আর রাজি ‘আলা তাফসিরুল বাইযাওয়ি, (বৈরুত, দারুস সদর) খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯
[১৭] ইবন হাজম, আল মুহাল্লা(বৈরুতঃ দারুল ফিকর) খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩২
[১৮] আস সুয়ুতি, আল ইতকান, (কায়রো: হাইয়া আল মিসরিয়্যাহ, ১৯৭৪) খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৭১
[19]বুখারী১/১০/৮৬হাঃ৭৩৯নং টীকা,পৃঃ৩৫৭
[20]আবূ দাঊদ১/২/১১৯নং হাদীস, টীকা নং ৭৪৭,পৃঃ৪৯১,
[21]বুখারী, টীকা নং১০৫,পৃঃ৪১৩,
[22]বুখারী ৩/৬০/১ক হাদীসঃ৩৩৩০,৫১৮৪, ৫১৮৬) (মুসলিম ১৭/১৯ হাঃ ১৪৭০, আহমাদ ৮০৩৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩০৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০৯২)
[23]বুখারী পৃঃ৪৩২
[24]আল-বাক়ারাহ ২:৩৫,কুরআন অ্যাপ পেতে :https://goo.gl/w6rESk
[25] সূরা ত়াহা ২০:১২১,কুরআন অ্যাপ পেতে :https://goo.gl/w6rESk
[26]আল-আ‘রাফ ৭:১৯,কুরআন অ্যাপ পেতে :https://goo.gl/w6rESk
[27]আল-আ‘রাফ ৭:২০,কুরআন অ্যাপ পেতে :https://goo.gl/w6rESk
[28]তাহা ২০:১২০,কুরআন অ্যাপ পেতে :https://goo.gl/w6rESk
[29].আল-আ‘রাফ ৭:২২,কুরআন অ্যাপ পেতে :https://goo.gl/w6rESk
[30]Book of Genesis 3:6

কোরান কি সঠিকভাবে সংরক্ষন করা হয়েছে?

কোরান কি সঠিকভাবে সংরক্ষন করা হয়েছে পর্ব-১ কি যেন বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এটা কি আলোচনা নাকি সমালোচনা ঠিক বুঝি উঠতে পারছিলাম না। আমরা উপ...