বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৮

পর্বঃ২, অভিজিৎ রায়ের মিথ্যাচার?


পর্বঃ২অভিজিৎ রায়ের মিথ্যাচার?




তিনি তার বইয়ে লেখেছেনঃ
"কখনও বলা হয়েছে মুহাম্মাদকে সাহায্যে জন্য প্রস্তুত আছেন এক হাজার জন ফেরেশতা(৮:৯-১০)কখনোবা বলেছেন এই সাহায্যেকারী ফেরেশতাদের সং্খ্যা আসলে তিন হাজার(৩:১২৪,১২৬)।কখন আল্লাহ বলেছেন তার একটি দিন পার্থিব এক হাজার বছরের সমান (২২:৪৭,৩২:৫)কখনোবা বলেছেন তা দিন পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান(৭০:৪)"(8)
জবাবঃ সংশ্লিষ্ট আয়াতগুলো নিচে উল্লেখ করা হল।
( 124 )   إِذْ تَقُولُ لِلْمُؤْمِنِينَ أَلَن يَكْفِيَكُمْ أَن يُمِدَّكُمْ رَبُّكُم بِثَلَاثَةِ آلَافٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ مُنزَلِينَ
( 125 )   بَلَىٰ ۚ إِن تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا وَيَأْتُوكُم مِّن فَوْرِهِمْ هَٰذَا يُمْدِدْكُمْ رَبُّكُم بِخَمْسَةِ آلَافٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ مُسَوِّمِينَ
অর্থঃ “ তুমি [মুহাম্মাদ(ﷺ)] যখন বলতে লাগলে মু’মিনদেরকে-তোমাদের জন্য কি এটা যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের সাহায্যার্থে তোমাদের প্রভু আসমান থেকে অবতীর্ণ ৩০০০ ফেরেশতা পাঠাবেন?
অবশ্য তোমরা যদি ধৈর্য ধর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর আর তারা যদি তারা দ্রুত গতিতে তোমাদের উপর আক্রমণ করে, তাহলে তোমাদের প্রভু ৫০০০ চিহ্নিত ফেরেশতা দিয়ে তোমাদের সাহায্য করবেন।” [1]
إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُم بِأَلْفٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ
অর্থঃ “  তোমরা যখন ফরিয়াদ করতে আরম্ভ করেছিলে তোমাদের প্রভুর [আল্লাহ] নিকট, তখন তিনি তোমাদের ফরিয়াদের মঞ্জুরী দান করলেন যে, আমি তোমাদিগকে সাহায্য করব ধারাবহিকভাবে আগত হাজার ফেরেশতার মাধ্যমে।” [2]
( 6 )   وَقَالُوا يَا أَيُّهَا الَّذِي نُزِّلَ عَلَيْهِ الذِّكْرُ إِنَّكَ لَمَجْنُونٌ
( 7 )   لَّوْ مَا تَأْتِينَا بِالْمَلَائِكَةِ إِن كُنتَ مِنَ الصَّادِقِينَ
( 8 )   مَا نُنَزِّلُ الْمَلَائِكَةَ إِلَّا بِالْحَقِّ وَمَا كَانُوا إِذًا مُّنظَرِينَ
অর্থঃ “তারা বললঃ হে ঐ ব্যক্তি, যার প্রতি কুরআন নাযিল হয়েছে— তুমি তো একজন উম্মাদ! যদি তুমি সত্যবাদী হও, তবে আমাদের কাছে ফেরেশতাদেরকে আনো না কেন?
আমি ফেরেশতাদেরকে একমাত্র ফায়সালার জন্যেই নাযিল করি। [ফেরেশতাদের পাঠানো হলে] তখন তাদেরকে আর অবকাশ দেয়া হবে না।“ [3]
সুরা হিজরের আলোচ্য আয়াতটি (আয়াত ১৫:৮) প্রসঙ্গসহ পড়লেই দেখা যাচ্ছে যে এখানে মোটেও বদরের যুদ্ধের কথা বলা হচ্ছে না। সুরা হিজর একটি মাক্কী সুরা, এটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়। আর বদরের যুদ্ধ হয় তার অনেক পরে, রাসুল(ﷺ) মদীনায় হিজরত করার পর। [4]
আলোচ্য আয়াতের প্রেক্ষাপট হচ্ছে, মক্কার অবিশ্বাসীরা রাসুলুল্লাহ(ﷺ)কে বলেছিল, “হে ঐ ব্যক্তি, যার প্রতি কুরআন নাযিল হয়েছে— তুমি তো একজন উম্মাদ!” তারা আরো দাবি করে যে তিনি যদি সত্যবাদী হন, তাহলে তাদের কাছে ফেরেশতা নিয়ে আসেন না কেন? এর জবাবে আল্লাহ নাজিল করেন, “আমি ফেরেশতাদেরকে একমাত্র ফায়সালার জন্যেই নাযিল করি। তখন তাদেরকে আর অবকাশ দেয়া হবে না।“  যখন ফেরেশতাদের আগমনের পরেও বিশ্বাস স্থাপন করত না, যা তাদের অবস্থাদৃষ্টে নিশ্চিত, তখন তাৎক্ষণিকভাবে তাদেরকে ধ্বংস করে দেওয়া হত। যেমন সুরা আন’আমের ১ম শেষ আয়াতগুলোতে এর কারণ বর্ণিত হয়েছে। [5] 
কুরআনেই এর বাস্তব উদাহরণ পাওয়া যায়। নবী লুত(আ) এর জাতির সীমালঙ্ঘণের কারণে তাদের জন্য ফেরেশতা প্রেরণ করা হয় এবং তাদেরকে একেবারে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। [6] এ ছাড়া বদর যুদ্ধেও মক্কার অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে ফয়সালামূলক যুদ্ধে মুসলিমদের সাহায্য করার জন্য ফেরেশতা অবতীর্ণ করা হয়।
অর্থাৎ এখানে অভিযোগকারীরা সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনার উপর ও ভিন্ন প্রসঙ্গে নাজিল হওয়া একটি আয়াতকে অন্য ঘটনার সাথে জুড়ে দিয়ে কুরআন থেকে ‘স্ববিরোধিতা’(!) বের করার প্রয়াস পেয়েছেন।
এবার বদরের যুদ্ধের প্রেক্ষিতে নাজিলকৃত আয়াতগুলোর আলোচনায় আসি যেগুলোর ব্যাপারে স্ববিরোধিতার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
বদরের যুদ্ধের সময়ে আল্লাহ তা’আলার পক্ষে থেকে যে সমস্ত ফেরেশতা সাহায্যের জন্য পাঠানো হয়েছিল, সুরা আনফাল ৮:৯ নং আয়াতে তাদের সংখ্যা ১০০০ জন ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ সুরা আলি ইমরানে (আয়াত ৩:১২৪-১২৫) ৩০০০ এবং ৫০০০ ফেরেশতারও উল্লেখ রয়েছে।
এর কারণ ছিল—প্রকৃতপক্ষে ৩টি ওয়াদার ভিন্নতা যা বিভিন্ন অবস্থার প্রেক্ষিতে করা হয়েছে।
১ম ওয়াদাটি ছিল ১০০০ ফেরেশতা প্রেরণের (সুরা আনফাল ৮:৯) , যার কারণ ছিল মহানবী(ﷺ) এর দুআ এবং সাধারণ মুসলিমদের ফরিয়াদ।
২য় ওয়াদা, যা ৩০০০ ফেরেশতার ব্যাপারে করা হয় এবং যা সুরা আলি ইমরানে (আয়াত ৩:১২৪) উল্লেখ করা হয়েছে। এটা সেই সময়ে করা হয়েছিল যখন মুসলিমদের কাছে এই সংবাদ এসে পৌঁছে যে, কুরাইশ বাহিনীর জন্য আরো বর্ধিত সাহায্য আসছে। তাফসির রুহুল মা’আনী গ্রন্থে ইবন আবি শায়বা ও ইবন মুনজির কর্তৃক শা’বীর উদ্ধৃতিক্রমে উল্লেখ রয়েছে যে, ইবন জাবির মুহারিবী মুশরিকদের সহায়তার উদ্যেশ্যে আরো সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসছে এ সংবাদে মুসলিমদের মাঝে এক ত্রাসের সৃষ্টি হয়। এরই প্রেক্ষিতে সুরা আলি ইমরানের ৩:১২৪ নং আয়াত নাজিল হয়। এতে ৩০০০ ফেরেশতাকে মুসলিমদের সাহায্যকল্পে আকাশ থেকে অবতীর্ণ করার ওয়াদা করা হয়।
আর ৩য় ওয়াদা ছিল ৫০০০ এর। তা ছিল এই শর্তযুক্ত যে—বিপক্ষ দল যদি প্রচণ্ড আক্রমণ করে বসে, তবে ৫০০০ ফেরেশতার সাহায্য পাঠানো হবে। আর তা সুরা আলি ইমরানের পরবর্তী আয়াতে (আয়াত ৩:১২৫) ব্যক্ত করা হয়েছে। ... কোন কোন তাফসিরবিদ বলেন যে, এ ওয়াদার শর্ত ছিল ৩টি। (১) দৃঢ়তা অবলম্বন (২) তাকওয়ার উপর স্থির থাকা থাকা এবং (৩) প্রতিপক্ষের ব্যাপক আক্রমণ।
১ম ২টি শর্ত সাহাবায়ে কিরামের(রা) এমনিতেই বিদ্যমান ছিল এবং তাঁদের এ আশায় প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এতটুকু পার্থক্য আসেনি।
কিন্তু ৩য় শর্তটি অর্থাৎ ব্যাপক আক্রমণের ব্যাপারটি প্রথমে সংঘটিত হয়নি কাজেই ৫০০০ ফেরেশতার আগমনের প্রয়োজন হয়নি।
...
এখানে এ বিষয়টিও লক্ষণীয় যে, উক্ত আয়াতগুলোতে যে ৩টি দল (১০০০, ৩০০০ ও ৫০০০ জনের) প্রেরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তাদের প্রত্যেকটি দলের সাথেই একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ রয়েছে। সুরা আনফালের যে আয়াতে ১০০০এর ওয়াদা করা হয়েছে (আয়াত ৮:৯) তাতে ফেরেশতাদের বৈশিষ্ট্য বলতে গিয়ে مُرْدِفِينَ শব্দ বলা হয়েছে। এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছেঃ ‘পেছনে লাগোয়া’। এ থেকে এ ইঙ্গিত বোঝা যায় যে এদের পেছনে আরো ফেরেশতা আসবে। পক্ষান্তরে সুরা আলি ইমরানের উল্লেখিত প্রথম আয়াতটিতে (আয়াত ৩:১২৪) ফেরেশতাদের বৈশিষ্ট্য مُنزَلِينَ বলা হয়েছে। অর্থাৎ এ সমস্ত ফেরেশতা আকাশ থেকে অবতারণ করা হবে। এতে একটি বিশেষ গুরুত্বের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, পূর্ব থেকেই যে সব ফেরেশতা পৃথিবীতে অবস্থান করছেন, তাদেরকে এ কাজে নিয়োগ না করে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে এ কাজের জন্য আকাশ থেকে ফেরেশতা অবতারণ করা হবে।
আর সুরা আলি ইমরানের অন্য আয়াতে যেখানে ৫০০০ ফেরেশতার কথা উল্লেখ আছে (আয়াত ৩:১২৫) তাতে ফেরেশতাদের مُسَوِّمِينَ বৈশিষ্ট্য বলা হয়েছে। অর্থাৎ তাঁরা হবেন বিশেষ চিহ্ন ও বিশেষ পোশাকে ভূষিত। হাদিসের বর্ণণায় তাই রয়েছে যে, বদর যুদ্ধে অবতীর্ণ ফেরেশতাদের পাগড়ী ছিল সাদা। এ ছাড়া হুনাইন যুদ্ধে সাহায্যের জন্য আগত ফেরেশতাদের পাগড়ী ছিল লাল। [7]  
অতএব আলোচ্য আয়াতগুলোতে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সংখ্যক ফেরেশতার দল দ্বারা মুসলিমদের সাহায্য করবার কথা বলা হয়েছে। এই তথ্যগুলোতে কোন প্রকারের বৈপরিত্য নেই।
আর একদিন কত দিনের সমান সেই সম্পর্কে আয়াত উল্লেখ করা হলোঃ
(1)
تَعْرُجُ ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ وَٱلرُّوحُ إِلَيْهِ فِى يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُۥ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ
ফেরেশতাগণ এবং রূহ আল্লাহ তা’আলার দিকে উর্ধ্বগামী হয় এমন একদিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর(9

এই আয়াত সম্পর্কে আমরা হাদীসে কি বলা আছে তা দেখে নেয়।

হাদীসঃ সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সোনা-রূপার অধিকারী যেসব লোক এ হাক (হক) (যাকাত) আদায় করে না, কিয়ামাতের দিন তার ঐ সোনা-রূপা দিয়ে তার জন্য আগুনের অনেক পাত তৈরি করা হবে, অতঃপর তা জাহান্নামের আগুনে গরম করা হবে। অতঃপর তা দিয়ে কপালদেশ ও পার্শ্বদেশ ও পিঠে দাগ দেয়া হবে। যখনই ঠাণ্ডা হয়ে আসবে পুনরায় তা উত্তপ্ত করা হবে। এরূপ করা হবে এমন একদিন যার পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। আর তার এরূপ শাস্তি লোকদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে। অতঃপর তাদের কেউ পথ ধরবে জান্নাতের আর জাহান্নামের দিকে।
জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! উটের (মালিকের) কী অবস্থা হবে? তিনি বললেন, যে উটের মালিক তার উটের হাক (হক) আদায় করবে না তার উটের হকগুলোর মধ্যে পানি পানের তারিখে তার দুধ দোহন করে অন্যদেরকে দান করাও একটি হাক (হক), যখন কিয়ামাতের দিন আসবে তাকে এক সমতল ময়দানে উপুড় করে ফেলা হবে। অতঃপর তার উটগুলো মোটাতাজা হয়ে আসবে। এর বাচ্চাগুলোও এদের অনুসরণ করবে। এগুলো আপন আপন খুর দ্বারা তাকে পায়ে মাড়াতে থাকবে এবং মুখ দ্বারা কামড়াতে থাকবে। এভাবে যখন একটি পশু তাকে অতিক্রম করবে অপরটি অগ্রসর হবে। সারাদিন তাকে এরূপ শাস্তি দেয়া হবে। এ দিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। অতঃপর বান্দাদের বিচার শেষ হবে। তাদের কেউ জান্নাতের দিকে আর কেউ জাহান্নামের দিকে পথ ধরবে।
অতঃপর জিজ্ঞেস করা হলো- হে আল্লাহর রসূল! গরু-ছাগলের (মালিকদের) কী অবস্থা হবে? উত্তরে তিনি বললেন, যেসব গরু ছাগলের মালিক এর হাক (হক) আদায় করবে না কিয়ামাতের দিন তাকে এক সমতল ভূমিতে উপুড় করে ফেলে রাখা হবে। আর তার সে সব গরু ছাগল তাকে শিং দিয়ে আঘাত করতে থাকবে এবং খুর দিয়ে মাড়াতে থাকবে। সেদিন তার একটি গরু বা ছাগলের শিং বাকা বা শিং ভাঙ্গা থাকবে না এবং তাকে মাড়ানোর ব্যাপারে একটিও অনুপস্থিত দেখতে পাবে না। যখন এদের প্রথমটি অতিক্রম করবে দ্বিতীয়টা এর পিছে পিছে এসে যাবে। সারাদিন তাকে এভাবে পিষা হবে। এ দিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। অতঃপর বান্দাদের বিচার শেষ হবে এবং তাদের কেউ জান্নাতের দিকে আর কেউ জাহান্নামের দিকে পথ ধরবে।
অতঃপর জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! ঘোড়ার (মালিকের) কী অবস্থা হবে? তিনি (উত্তরে) বললেন, ঘোড়া তিন প্রকারের- (ক) যে ঘোড়া তার মালিকের জন্য গুনাহের কারণ হয়, (খ) যে ঘোড়া তার মালিকের পক্ষে আবরণ স্বরূপ এবং (গ) যে ঘোড়া মালিকের জন্য সাওয়াবের কারণ স্বরূপ। বস্তুতঃ সে ঘোড়াই তার মালিকের জন্য বোঝা বা গুনাহের কারণ হবে, যা সে লোক দেখানোর জন্য অহংকার প্রকাশের জন্য এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে শক্রতা করার উদ্দেশে পোষে। আর যে ব্যক্তি তার ঘোড়াকে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য পোষে এবং এর পিঠে সওয়ার হওয়া এবং খাবার ও ঘাস দেয়ার ব্যাপারে আল্লাহর হাক (হক) ভুলে না, এ ঘোড়া তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখার জন্য আবরণ হবে।
আর যে ব্যক্তি মুসলিমদের সাহায্যের জন্য আল্লাহর রাস্তায় ঘোড়া পোষে এবং কোন চারণভূমি বা ঘাসের বাগানে লালন পালন করতে দেয় তার এ ঘোড়া তার জন্য সাওয়াবের কারণ হবে। তার ঘোড়া চারণভূমি অথবা বাগানে যা কিছু খাবে তার সমপরিমাণ তার জন্য সাওয়াব লেখা হবে। এমনকি এর গোবর ও প্রস্রাবে সাওয়াব লেখা হবে। আর যদি তা রশি ছিড়ে একটি বা দুটি মাঠেও বিচরণ করে তাহলে তার পদচিহ্ন ও গোবরের সমপরিমাণ নেকী তার জন্য লেখা হবে। এছাড়া মালিক যদি কোন নদীর তীরে নিয়ে যায়- আর সে নদী থেকে পানি পান করে অথচ তাকে পানি পান করানোর ইচ্ছা মালিকের ছিল না তথাপি পানির পরিমাণ তার ‘আমালনামায় সাওয়াব লেখা হবে।
অতঃপর জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! গাধা সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, গাধা সম্পর্কে কোন আয়াত আমার কাছে অবতীর্ণ হয়নি। তবে ব্যাপক অর্থবোধক এ আয়াতটি আমার উপর অবতীর্ণ হয়েছে, যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ একটি ভাল কাজ করবে সে তার শুভ প্রতিফল পাবে আর যে এক অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করবে সে তার মন্দ ফল ভোগ করবে (10)

তাই এখান থেকে বুঝা যায় পঞ্চশ হাজারের বিষয়টা আখিরাতের বিষয়।তাই আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারে যে নিচে উল্লেখকৃত আয়াতের সাথে এর কোনো বিরোধ নাই।এবং এটা অভিজিৎ রায়ে মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয় পবিত্র কোরআনের নামে।
(2)
وَيَسْتَعْجِلُونَكَ بِٱلْعَذَابِ وَلَن يُخْلِفَ ٱللَّهُ وَعْدَهُۥۚ وَإِنَّ يَوْمًا عِندَ رَبِّكَ كَأَلْفِ سَنَةٍ مِّمَّا تَعُدُّونَ
তারা আপনাকে আযাব ত্বরান্বিত করতে বলে। অথচ আল্লাহ কখনও তাঁর ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। আপনার পালনকর্তার কাছে একদিন তোমাদের গণনার এক হাজার বছরের সমান।(11)
(3)
يُدَبِّرُ ٱلْأَمْرَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ إِلَى ٱلْأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ فِى يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُۥٓ أَلْفَ سَنَةٍ مِّمَّا تَعُدُّونَ
তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সমস্ত কর্ম পরিচালনা করেন, অতঃপর তা তাঁর কাছে পৌছবে এমন এক 
যার পরিমাণ তোমাদের গণনায় হাজার বছরের সমান(12)

Reference.............
[1]  আল কুরআন, আলি ইমরান ৩:১২৪-১২৫
[2]  আল কুরআন, আনফাল ৮:৯
[3]  আল কুরআন, হিজর ১৫:৬-৮
[4]  আর রাহিকুল মাখতুম {শফিউর রহমান মুবারকপুরী(র)}, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, পৃষ্ঠা ২৪৮
[5]  তাফসির মা’আরিফুল কুরআন, ৫ম খণ্ড {মুফতি শফি(র)}, সুরা হিজরের ৮নং আয়াতের তাফসির, পৃষ্ঠা ২৬৯-২৭০
[6]  সুরা হুদ ১১:৬৯-৮৩ ও সুরা যারিয়াত ৫১:২৪-৩৫ দ্রষ্টব্য
[7]  তাফসির মা’আরিফুল কুরআন, ৪র্থ খণ্ড {মুফতি শফি(র)}, সুরা আনফালের ৯নং আয়াতের তাফসির, পৃষ্ঠা ২১৩-২১৪
(8)অবিশ্বাসের দর্শন পৃঃ২৬৭,
(9)সূরা আল মা'আরিজ ৭০:৪,
(10)সহীহ মুসলিম -২৪/৯৮৭হাঃ২১৮০,২১৮১,ইসলামিক ফাউন্ডেশন হাঃ২১৫৯, ইসলামীক সেন্টার হাঃ২১৬১,
(11)সূরা আল হাজ্জ্ব ২২:৪৭,কুরআন অ্যাপ পেতে :https://goo.gl/w6rESk
(12)সূরা সাজ্বদাহ ৩২:৫,
কুরআন অ্যাপ পেতে :https://goo.gl/w6rESk

উইকিপিডিয়ার আবারও মিথ্যাচার!

                                           উইকিপিডিয়ার মিথ্যাচার!


উইকিপিডিয়ায় লেখা আছে নিচের লেখা গুলোঃ
"মুসলমানদের বিশ্বাস অনুযায়ী ইসলাম হল তাঁদের জন্য আল্লাহর প্রেরিত জীবন বিধান"(1)
এখানে কৌশলে বুঝানো হচ্ছে "ইসলাম শুধু মাত্র"মুসলিমদের জন্য,পুরো মানব জাতির জন্য নয়।
অথচ এটা ইসলামের নামে মিথ্যাচার ছাড়া কিছুই নয় কারণ পবিত্র কুরআনে অনেকবার বলা হয়েছে ইসলাম বা  কুরআন এসেছে বা মুহাম্মাদ(সা) নবী হিসেবে এসেছেন পুরো মানবজাতির জন্য। আর এখানে যদি আমি লেখাটা ভাবার্থ করে তাহলে বলা যায় বলা হচ্ছে, "মুসলিমরা বিশ্বাস করে ইসলাম এসেছে মুসলিমদের জন্য"অথচ মুসলিমরা এটা বিশ্বাস করে না।
আল্লাহ তা'য়ালা বলেছেনঃ
وَمَآ أَرْسَلْنَٰكَ إِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَٰلَمِينَ
অনুবাদঃআমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্যে রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি(2)
وَمَآ أَرْسَلْنَٰكَ إِلَّا كَآفَّةً لِّلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ
অনুবাদঃ আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্যে সুসংবাদাতা ও সতর্ককারী রূপে পাঠিয়েছি;    কিন্তঅধিকাংশ মানুষ তা জানে না(3)
আল্লাহ তা'য়ালা কুরআনের অনেক সূরায় বলেছেন মহাম্মাদ(সা) ও কুরআন এসেছে মানবজাতি জন্য দেখুনঃ
কুরআন এসেছে মানবজাজাতির জন্য!
২১:১০৭
১৪:১
১৪:৫২
২:১৮৫
৩৯:৪১
৩৪:২৮
Reference.............
(1)https://bn.m.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87_%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80
(2)সূরা আল আম্বিয়া ২১ঃ১০৭;
(3)সূরা সাবা ৩৪ঃ২৮;

মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৮

"মুক্তমনা"ব্লগের লেখকের মিথ্যাচার?

                                  "মুক্তমনা"ব্লগের লেখকের মিথ্যাচার?


একজন লেখক দাবি করেছে নিচে যা উল্লেখ  করা হলোঃ
"কন্ট্রাডিকশন ১০ : কোরআনের ঐ সব আদেশ, নিষেধ, উপদেশ- যা মুহম্মদ সা: নিজেই মানেন নি(1)
১। সুরা ৪:৩
“আর যদি তোমরা ভয় কর যে, এতীম মেয়েদের হক যথাথভাবে পুরণ করতে পারবে না, তবে সেসব মেয়েদের মধ্যে থেকে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে, একটিই অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদেরকে; এতেই পক্ষপাতিত্বে জড়িত না হওয়ার অধিকতর সম্ভাবনা।”
এখান থেকে বুঝা যায় যে একজন মানুষ(সামর্থবান)সবোর্চ্চ চারটা বিয়ে করতে পারে। তার দাবি মুহাম্মাদ(সা) এর যেহেতু চারজজনের বেশি স্ত্রী ছিল তাই মুহাম্মাদ (সা) আল্লাহ আদেশ অমান্য করেছেন। এই দাবি যে কুরআন সম্পর্কে অজ্ঞতার ফসল ছাড়া আর কিছুই নয় তা যে কেউ কুরআন পাঠ করলে বুঝতে পারবে।আল্লাহ তা'য়ালা মুহাম্মাদ(সা) কে শুধু মাত্র তার জন্য চারজনের বেশি স্ত্রী রাখার অনুমতি দিয়েছেন আর তা কুরআনেই বলা আছে তাই তিনি আল্লাহ আদেশ অমান্য করেছেন,তা তার নামে মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই না।আল্লাহ তা'য়ালা বলেনঃ
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِىُّ إِنَّآ أَحْلَلْنَا لَكَ أَزْوَٰجَكَ ٱلَّٰتِىٓ ءَاتَيْتَ أُجُورَهُنَّ وَمَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ مِمَّآ أَفَآءَ ٱللَّهُ عَلَيْكَ وَبَنَاتِ عَمِّكَ وَبَنَاتِ عَمَّٰتِكَ وَبَنَاتِ خَالِكَ وَبَنَاتِ خَٰلَٰتِكَ ٱلَّٰتِى هَاجَرْنَ مَعَكَ وَٱمْرَأَةً مُّؤْمِنَةً إِن وَهَبَتْ نَفْسَهَا لِلنَّبِىِّ إِنْ أَرَادَ ٱلنَّبِىُّ أَن يَسْتَنكِحَهَا خَالِصَةً لَّكَ مِن دُونِ ٱلْمُؤْمِنِينَۗ قَدْ عَلِمْنَا مَا فَرَضْنَا عَلَيْهِمْ فِىٓ أَزْوَٰجِهِمْ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَٰنُهُمْ لِكَيْلَا يَكُونَ عَلَيْكَ حَرَجٌۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا
অনুবাদঃ হে নবী! আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে হালাল করেছি, যাদেরকে আপনি মোহরানা প্রদান করেন। আর দাসীদেরকে হালাল করেছি, যাদেরকে আল্লাহ আপনার করায়ত্ব করে দেন এবং বিবাহের জন্য বৈধ করেছি আপনার চাচাতো ভগ্নি, ফুফাতো ভগ্নি, মামাতো ভগ্নি, খালাতো ভগ্নিকে যারা আপনার সাথে হিজরত করেছে। কোন মুমিন নারী যদি নিজেকে নবীর কাছে সমর্পন করে, নবী তাকে বিবাহ করতে চাইলে সেও হালাল। এটা বিশেষ করে আপনারই জন্য-অন্য মুমিনদের জন্য নয়। আপনার অসুবিধা দূরীকরণের উদ্দেশে। মুমিনগণের স্ত্রী ও দাসীদের ব্যাপারে যা নির্ধারিত করেছি আমার জানা আছে। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।(2)
আবার আল্লাহ বলেনঃ
لَّا يَحِلُّ لَكَ ٱلنِّسَآءُ مِنۢ بَعْدُ وَلَآ أَن تَبَدَّلَ بِهِنَّ مِنْ أَزْوَٰجٍ وَلَوْ أَعْجَبَكَ حُسْنُهُنَّ إِلَّا مَا مَلَكَتْ يَمِينُكَۗ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ رَّقِيبًا
অনুবাদঃ এরপর আপনার জন্যে কোন নারী হালাল নয় এবং তাদের পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করাও হালাল নয় যদিও তাদের রূপলাবণ্য আপনাকে মুগ্ধ করে, তবে দাসীর ব্যাপার ভিন্ন। আল্লাহ সর্ব বিষয়ের উপর সজাগ নজর রাখেন।(3)

Reference..............
(1)https://blog.mukto-mona.com/2009/12/21/4041/
(2)সূরা আল আহযাব ৩৩ঃ৫০;
(3)সূরা আহযাব ৩৩ঃ৫২;

কুরআন ও হাদীস নিয়ে এক অমুসলিমের অজ্ঞতা?

কুরআন ও হাদীস নিয়ে এক অমুসলিমের অজ্ঞতা নাকি অপপ্রচার?


"তারপর ধরা যাক আদম-হাওয়ার বিষয়টা। বলা হয়ে থাকে, আদম-হাওয়া হলো দুনিয়ার প্রথম সৃষ্টি মানব-মানবী। তাদের দুই সন্তান–হাবিল, কাবিল। কোরান-হাদিস বা ইসলামের কোনো নির্ভযোগ্য সোর্স থেকে আদম-হাওয়া হাবিল-কাবিলের কাহিনীটা কেউ দিতে পারবেন?"(1)
এই কথাটা একজন অমুসলিমের। তার বক্তব্য থেকে বুঝা যায় যে তিনি ইসলাম সম্পর্কে কতটা জানেন?মুসলিম বা মানুষদের বিভ্রান্তি মধ্যে রাখা এ এক বড় হাতিয়ার যে ইসলাম সম্পর্কে না জেনে বড় বড় মন্তব্য করা। যাই হোক পবিত্র কুরআনে অনেক জায়গায় আদম (আ)ও হাওয়া(আ) নিয়ে বলা আছে, যে কেউ দেখে নিতে পারেন,নিচে দেওয়া হলোঃউল্লেখ্য যে, আমার জানা মতে হযরত আদম (আঃ)ও হাওয়া(আ) সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের ১০টি সূরায় ৫০টি আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।
যথাক্রমেঃ
সূরা বাক্বারাহ ২/৩১-৩৭= ৭;
আলে ইমরান ৩/৩৩,৫৯;
মায়েদাহ ৫/২৭-৩২= ৬;
আ‘রাফ ৭/১১, ১৯, ২৬, ২৭, ৩১, ৩৫, ১৭২-৭৩= ৮; হিজর ১৫/২৬-৪২= ১৭;
ইসরা ১৭/৬১, ৭০;
ইয়াসীন ৩৬/৬০।
..................................................................................
                     সর্বমোট = ৫০টি।
আর তাদের সন্তানদের সম্পর্কে বলা হয়েছেঃ
وَٱتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ ٱبْنَىْ ءَادَمَ بِٱلْحَقِّ إِذْ قَرَّبَا قُرْبَانًا فَتُقُبِّلَ مِنْ أَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلْ مِنَ ٱلْءَاخَرِ قَالَ لَأَقْتُلَنَّكَۖ قَالَ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ ٱللَّهُ مِنَ ٱلْمُتَّقِينَ
অনুবাদঃ আপনি তাদেরকে আদমের দুই পুত্রের বাস্তব অবস্থা পাঠ করে শুনান। যখন তারা ভয়েই কিছু উৎসর্গ নিবেদন করেছিল, তখন তাদের একজনের উৎসর্গ গৃহীত হয়েছিল এবং অপরজনের গৃহীত হয়নি। সে বললঃ আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা করব। সে বললঃ আল্লাহ ধর্মভীরুদের পক্ষ থেকেই তো গ্রহন করে থাকে।
لَئِنۢ بَسَطتَ إِلَىَّ يَدَكَ لِتَقْتُلَنِى مَآ أَنَا۠ بِبَاسِطٍ يَدِىَ إِلَيْكَ لِأَقْتُلَكَۖ إِنِّىٓ أَخَافُ ٱللَّهَ رَبَّ ٱلْعَٰلَمِينَ
অনুবাদঃ যদি তুমি আমাকে হত্যা করতে আমার দিকে হস্ত প্রসারিত কর, তবে আমি তোমাকে হত্যা করতে তোমার দিকে হস্ত প্রসারিত করব না। কেননা, আমি বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করি।
إِنِّىٓ أُرِيدُ أَن تَبُوٓأَ بِإِثْمِى وَإِثْمِكَ فَتَكُونَ مِنْ أَصْحَٰبِ ٱلنَّارِۚ وَذَٰلِكَ جَزَٰٓؤُا۟ ٱلظَّٰلِمِينَ
অনুবাদঃ আমি চাই যে, আমার পাপ ও তোমার পাপ তুমি নিজের মাথায় চাপিয়ে নাও। অতঃপর তুমি দোযখীদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাও। এটাই অত্যাচারীদের শাস্তি।
فَطَوَّعَتْ لَهُۥ نَفْسُهُۥ قَتْلَ أَخِيهِ فَقَتَلَهُۥ فَأَصْبَحَ مِنَ ٱلْخَٰسِرِينَ
অনুবাদঃঅতঃপর তার অন্তর তাকে ভ্রাতৃহত্যায় উদুদ্ধ করল। অনন্তর সে তাকে হত্যা করল। ফলে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।
فَبَعَثَ ٱللَّهُ غُرَابًا يَبْحَثُ فِى ٱلْأَرْضِ لِيُرِيَهُۥ كَيْفَ يُوَٰرِى سَوْءَةَ أَخِيهِۚ قَالَ يَٰوَيْلَتَىٰٓ أَعَجَزْتُ أَنْ أَكُونَ مِثْلَ هَٰذَا ٱلْغُرَابِ فَأُوَٰرِىَ سَوْءَةَ أَخِىۖ فَأَصْبَحَ مِنَ ٱلنَّٰدِمِينَ
অনুবাদঃ আল্লাহ এক কাক প্রেরণ করলেন। সে মাটি খনন করছিল যাতে তাকে শিক্ষা দেয় যে, আপন ভ্রাতার মৃতদেহ কিভাবে আবৃত করবে। সে বললঃ আফসোস, আমি কি এ কাকের সমতুল্যও হতে পারলাম না যে, আপন ভ্রাতার মৃতদেহ আবৃত করি। অতঃপর সে অনুতাপ করতে লাগল।(2)
এখানে তাদের নাম সরাসরি উল্লেখ না থাকলে ও তাদের নাম ছিল হাবিল ও কাবিল যা আহলে কিতাব ইতিহাস দ্বারা প্রমানিত(3)
Reference..........

(1)https://www.google.com/amp/s/chutrapata.wordpress.com/2016/02/28/%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A7%81%E0%A6%B2/amp/
(2)সূরা আল মা'য়েদাহ ৫ঃ২৭-৩১;
(3)কুরআনের উক্ত বর্ণনা ছাড়াও ‘জাইয়িদ’ (উত্তম) সনদ সহ আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ও আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) থেকে ‘মওকূফ’ সূত্রে যা যা বর্ণিত হয়েছে এবং হাফেয ইবনু কাছীর যাকে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী একাধিক বিদ্বানগণের ‘মশহূর’ বক্তব্য বলে স্বীয় তাফসীরে ও তারীখে উল্লেখ করেছেন, সে অনুযায়ী আদম পুত্রদ্বয়ের নাম ছিল ক্বাবীল ও হাবীল (قابيل وهابيل ) এবং ক্বাবীল ছিল আদমের প্রথম সন্তান ও সবার বড় এবং হাবীল ছিল তার ছোট।

সোমবার, ১৩ আগস্ট, ২০১৮

ফিতরাহ ও আল্লাহ অস্তিত্ব

                                                                "ফিতরাহ ও আল্লাহ অস্তিত্ব"



আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের সৃষ্টি করেছেন।তাই তার অস্তিত্বের বিষয় আমরা বুঝতে পেরেছে যখন আমরা সম্পূর্ণ অস্তিত্ব লাভ করেছ।আসলে প্রতিটি শিশুই জন্মগ্রহণ করে থাকে এই বিশ্বাস নিয়ে যে এই মহাবিশ্বের একজন সৃষ্টিকর্তা আছে।
মহানবি মুহাম্মাদ(সা)বলেছেনঃ
" প্রতিটি নবজাতকই জন্মলাভ করে ফিতরাতের উপর। এরপর তা মা-বাপ তাকে ইয়াহুদী বা খ্রিস্টান বা অগ্নিপূজারী রূপে গড়ে তোলে। যেমন, চতুষ্পদ পশু নিখুঁত বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাদের মধ্যে কোন কানকাটা দেখতে পাও? (বরং মানুষেরাই তার নাক কান কেটে দিয়ে বা ছিদ্র করে তাকে বিকৃত করে থাকে। অনুরূপ ইসলামের ফিতরাতে ভূমিষ্ট সন্তানকে মা-বাপ তাদের শিক্ষা-দীক্ষা ও জীবন ধারায় প্রবাহিত করে ভ্রান্ত ধর্মী বানিয়ে ফেলে) পরে আবূ হুরায়রা (রাঃ) তিলাওয়াত করলেন ‏فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا‏ আল্লাহর দেওয়া ফিতরাতের অনুসরণ কর যে ফিতরাতের উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। (সূরা রূম: ৩০)"(1)
তাই তার অস্তিত্বের নির্দশন খুঁজতে হবে না কোনো ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কপের নিচে বা হতে হবে না কোনো বড় মাপের বিজ্ঞানী বা দার্শনিক বা এর জন্য কোনো PHD Degree 'র    দরকার নেই। কারণ সেই তা জন্মগতভাবে তা লাভ করে থাকে।
এখন দেখা যাক, আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণাতে এর সমর্থনে পরীক্ষালব্ধ প্রমাণ আছে কিনা? অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভলোপমেন্টাল সাইকোলজিস্ট ড. জাস্টিন এল. ব্যারেট শিশুদের উপর গবেষণা করেন। এ ব্যাপারে বেশ কিছু বইও লিখেছেন তিনি। বইগুলোর মাঝে একটি হল “বর্ন বিলিভার্‌স”, যেখানে তিনি সুস্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন, “… শিশুরা জন্মগতভাবে বিশ্বাসী, যাকে আমি বলি ‘সহজাত ধর্ম’ …” (2)
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী (নাস্তিক) ড. অলিভেরা প্যাট্রোভিচ Peer Reviewed জার্নালে তাঁর গবেষণার ফল জানান,
“কিছু ধর্মীয় বিশ্বাস যে সার্বজনীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে (যেমন কোন বিমূর্ত সত্তাকে বিশ্বজগতের স্রষ্টা হিসেবে মৌলিক বিশ্বাস), এর (স্বপক্ষে) শক্তিশালী প্রমাণ ধর্মগ্রন্থের বাণীর চেয়ে বরং (বৈজ্ঞানিক) গবেষণা থেকেই বেশি বেরিয়ে আসছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।” (3)
ইনি হলেন একজন বিজ্ঞানী। তিনি নিজের বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল দিয়ে প্রমাণ দেখিয়েছেন যে, মানুষ সহজাত ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অদ্বিতীয়-সর্বোচ্চ এক বুদ্ধিমত্তায় বিশ্বাস গড়ে তোলে। তিনি আরো বলেছেন যে, ধর্মীয় গ্রন্থের চেয়ে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষালব্ধ প্রমাণ দ্বারাই তা শক্তিশালীভাবে সমর্থিত হচ্ছে। কিন্তু তিনি যদি ইসলামি ধর্মমত অধ্যয়ন করতেন তবে অবশ্যই জানতে পারতেন যে, ফিতরাহ্‌-এর এই ধারণা তথা আল্লাহ্‌র অস্তিত্বের প্রতি সহজাত বিশ্বাস ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। ইসলামি গ্রন্থগুলোর পাতার পর পাতা জুড়ে এর উপস্থিতি। একে অস্বীকার করার কোনই উপায় নেই। এর শেকড় ইসলামি ধর্মমতে প্রোথিত। এদিকে ইয়েল ইউনিভার্সিটির আরেক (নাস্তিক) গবেষক পল ব্লুম Peer Reviewed গবেষণাপত্রে প্রমাণ দেখিয়েছেন ঐশ্বরিক সত্ত্বার পাশাপাশি মানুষের যে মন বলে কিছুর অস্তিত্ব আছে এ ধারণাও সহজাতভাবেই শিশুদের মাঝে উদ্ভূত হয়। (4)
সাম্প্রতিক কালে আরো অনেক সেক্যুলার গবেষকদের গবেষণায় প্রতীয়মান হচ্ছে, ধর্মবিশ্বাস প্রাথমিকভাবে ব্যক্তির ভেতর থেকেই উৎপত্তি হয়… যা মৌলিকভাবে মানব মনের এক অংশ…। (5) তাদের সংগৃহীত তথ্য থেকে নতুন তত্ত্ব বেরিয়ে আসছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি তত্ত্ব হল, Strong Naturalness Theory যা পূর্বের প্রভাবশালী Anthropomorphism Theory কে ছুঁড়ে ফেলেছে। Strong Naturalness Theory এর বক্তব্য হল, ধর্মবিশ্বাসের উদ্ভব স্বয়ংক্রিয় ও অভ্যন্তরীণ এবং তা প্রকৃতপক্ষে স্বত:স্ফূর্তভাবে শিশুদের মাঝে উদ্ভূত হয়…। (6)
কথা এখানেই শেষ নয়। এইতো কিছু দিন আগেই প্রায় দুই মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন গবেষকের নেতৃত্বে পরিচালিত তিন বছরব্যাপী এক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পে ৫৭ জন গবেষক ২০টি দেশে ৪০টি ভিন্ন ভিন্ন গবেষণা পরিচালনা করেন। তাঁদের এই গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল স্রষ্টা ও পরকালের ধারণা কি পিতামাতা বা সমাজ কর্তৃক চাপিয়ে দেওয়ার ফল নাকি মানব প্রকৃতির মৌলিক অভিব্যক্তি তা খুঁজে বের করা। দীর্ঘ গবেষণার পর তাঁরা সিদ্ধান্তে উপনীত হন, স্রষ্টার পাশাপাশি মৃত্যু পরবর্তী জীবনে বিশ্বাসও মানুষের সহজাত প্রবণতার অন্তর্গত। (7)
তাহলে আমরা কী বুঝলাম? এখন পর্যন্ত আমার বক্তব্যের সারমর্ম হচ্ছে, আমাদের আল্লাহ্‌র অস্তিত্বে বিশ্বাস করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল এই বিশ্বাস ফিতরাহ্‌-এর অংশ, এই বিশ্বাস সহজাত-প্রাকৃতিক। বিশ্বজগতকে প্রকৃতই অস্তিত্বশীল বলে বিশ্বাস করা যেমন যৌক্তিক, আল্লাহর অস্তিত্বে আমাদের এই বিশ্বাসও সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

রেফারেন্স:
(1) বুখারী, আস-সহীহ, জানাযা অধ্যায়; খণ্ড ০২, হাদীছ ১২৭৫-১২৭৬ (ঢাকা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ৫ম সংস্করণ এপ্রিল ২০০৪)
(2) Dr. Justine L. Barrett, Born Believers: The Science of Children’s Religious Belief; p. 136 (Simon and Schuster, Mar 20, 2012)
(3) Olivera Petrovich, Key psychological issues in the study of religion; Psihologija (2007), Volume 40, Issue 3, p. 360; Available at: https://doi.org/10.2298/PSI0703351P
(4) Paul Bloom, Religion is natural (2007), Journal of Developmental Science 10:1, p. 147-151. DOI: 10.1111/j.1467-7687.2007.00577.x
(5) Patrick McNamara Ph.D., Wesley J. Wildman (etd.), Science and the World’s Religions; vol. 02 (Persons and Groups), p. 206, 209 (Publisher ABC-CLIO , July 19, 2012)
(6) প্রাগুক্ত, p. 210; এ বিষয়ে স্বল্প দৈর্ঘ্যের প্রামাণ্য ভিডিও দেখুন: http://callingtotheone com/is-believe-in-god-natural

(7) University of Oxford. “Humans ‘predisposed’ to believe in gods and the afterlife.” ScienceDaily, 14 July 2011. Available at: http://www. sciencedaily.com/releases/2011/07/110714103828.htm

বিভিন্ন ধর্মে শিশু বিবাহ?

বিভিন্ন ধর্মে শিশু বিবাহ?
 
ইসলাম ধর্মকে যখন বিদ্বেষীরা আক্রমন করতে যায়, তখন যে যে টপিকগুলো তারা সামনে আনে, তার মধ্যে নবিজী সঃ ও আয়শা রাঃ এর বিবাহ অন্যতম। কারন তথ্যমতে আয়শা রাঃ ছিলেন বয়সে অত্যন্ত কম। তাই বিদ্বেষিরা এই ঘটনার সাথে বাল্য বিবাহ, পেডোফিল ইত্যাদি শব্দগুলো জুড়ে দিতে চায়। যাই হোক, নবিজির ও আয়শা রাঃ এর বিবাহ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষন ও বিদ্বেষীদের জবাব জানার জন্য নিম্নোক্ত লেখাটি পড়ুন, এটি চমৎকার একটি লেখা,
https://www.facebook.com/notes/shihab-ahmed-tuhin/%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%B2-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%83-%E0%A6%93-%E0%A6%86%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%BE-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%83-%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%AF%E0%A6%A4-%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B0/1202195303148076
কিন্তু যেসব ধর্মের লোকেরা ইসলামের শীশু বিয়ের অভিযোগগুলি করতছে তারা মূলত নিজেরাই নিজেদের ধর্মের ব্যাপারে অজ্ঞ। তাই তাদেরকে চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিতেই এই লেখা।
প্রথমেই আনি হিন্দু ধর্মের কথা।
ফেসবুকিয় দাদারা নবিজির বিবাহ নিয়ে অত্যন্ত বিকৃত প্রপাগন্ডা ছড়িয়ে বেরায়। তারা হরহামেশাই আয়শা রাঃ এর বিয়ে নিয়ে মুসলিমদের খোটা দেয়। তাই আসুন দেখা যাক, তাদের অবতার, ভগবান ও দেবতারা কি করেছেন,
শ্রী রাম বিয়ে করেন মাত্র ৬ বছর বয়স্ক সীতাকে।
হ্যা ঠিকই শুনেছেন। রাম হিঁদুদের কারো কাছে ভগবান, কারো কাছে মহাপুরুষ। আর সীতা হচ্ছে হিঁদুদের নিকট সবথেকে আদর্শ নারী চরিত্র। কিন্তু হিন্দুরা অনেকেই জানে না কিংবা যারা জানে তারা জানতে দেয় না যে সীতার বয়স ছিল মাত্র ৬ বছর যখন রাম তাকে বিবাহ করে। ৬ বছর বয়স থেকেই সে রামের সাথে সংসার শুরু করে রাজা দশরথের প্রাসাদে।
রেফারেন্স, বাল্মিকি রামায়ন, অরন্য খন্ড, ৩.৪৭.৩-১০,
বলা আছে,
সীতার বয়স ছিল ১৮ বছর যখন সে ভগবান রামের সহিত বনবাসে গমন করে। বনবাসের পুর্বে তিনি স্বামী রাম সহিত ১২ বছর কাটিয়েছেন রাজা দশরথের প্রাসাদে। এখানে যদি আমরা সিম্পল অংক করি, তবে দেখতে পাব বিবাহের সময় সীতার বয়স,
১৮-১২= ৬ বছর।
নীচের লিংক থেকে বিস্তারিত পড়ে ও অংক কষে নিজেরাই দেখুন।
http://www.valmikiramayan.net/utf8/aranya/aranya_contents.htm
রামের সাথে বিয়ের সময় সীতার বয়স ৬ বছর ছিল এটি স্পষ্টভাবে পুরানেও উল্লখে আছে।
রেফারেন্স, স্কন্দ পুরাণ ৩.২.৩০.৮-৯, বলা আছে,
রাম বিয়ে করেন রাজা মিথিলার ৬ বছর বয়সী সুন্দরী কন্যা, সীতাকে।
এবার হিন্দু দাদারা রামের ব্যপারে কি বলবে ? (নীচে স্ক্রীনশট)
Skanda Purana, Translated By: Sri Desiraju Hanumantha Rao
কৃষ্ণ বিয়ে করেন ৮ বছর বয়স্ক রুক্মনীকে।
হ্যা ঠিকই শুনেছেন। হিঁদুদের সর্বাধিক জনপ্রিয় অবতার ভগবান শ্রী কৃষ্ণ, যখন রুকমনীকে বিয়ে করেন তখন রুকমনীর বয়স ছিল মাত্র ৮ বছর।
রেফারেন্স, স্কন্দ পুরাণ, ৫.৩.১৪২.৮-৭৯,
Screenshot 1
Screenshot 2
আর সেই শিশু রুকমনীর সাথেই শ্রী কৃষ্ণের যৌনাচার,
রেফারেন্স, ব্রাক্ষ বৈবর্ত পুরান, কৃষ্ণ জন্ম খন্ড, ১১২,১-১০,
"কৃষ্ণ তাহার স্ত্রী রুকমনীর পানে বিমুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছেন, যে কিনা এখনো পরিপুর্নভাবে বেড়ে ওঠে নি এবং যার বয়োসন্ধি শুরু হয়েছে মাত্র এবং যৌনতা সম্বন্ধে এখনো যার কোন ধারনাই গড়ে ওঠে নি । এমন মুহুর্তে কৃষ্ণ তার সহিত যৌনক্রিড়া শুরু করে দিল এবং রুকমনী জ্ঞান হারিয়ে ফেলল "
নীচে স্ক্রীনশট
Brahma Vaivarta Purana, Translated by:  T. R Rajendra Nath Sen
শিব বিয়ে করে ৮ বছর বয়স্ক পার্বতীকে।
হ্যা, অবাক হলেও এটাই সত্য, শিব পার্বতীকে অতি অল্প বয়সেই বিবাহ করে হিমাচলে নিয়ে এসে সংসার শুরু করে। পার্বতীর বয়স ছিল তখন ৮ বছর।
রেফারেন্স, শিবপুরাণ, রুদ্রসংহিতা, পার্বতীখন্ড, ৩.১১.১-২,
Shiva Purana, Translated by: J. L. Shastri
এখানে Himavat  হচ্ছে পার্বতীর আরেক নাম।
হিন্দু দাদাদের কি কিছু বলার আছে তাদের প্রধান প্রধান অবতারদের শিশু বিবাহ নিয়ে ?
খ্রিষ্টানধর্মে শিশু ধর্ষন ও বিবাহঃ
বাইবেলে সরাসরি শত্রুপক্ষের মেয়ে শিশুদেরকে নিজের করায়াত্তে ব্যাবহার করার অনুমতি দিয়েছে ।
বাইবেল কিং জেমস ভার্সন ৩১,১৭-১৮, বলা আছে,
“তাদের প্রত্যেক পুরুষ শিশূকে হত্যা কর, প্রত্যেক নারীকে হত্যা কর যারা পুরুষের সাথে শয্যাযাপন করেছে।
কিন্তু মেয়েশিশু যারা কোণ পুরুষের সহিত শয্যাযাপন করেনি, তাদের জীবিত রাখ নিজের জন্য।”
অনলাইন লিংক
https://www.biblegateway.com/passage/?search=Numbers+31%3A17-18&version=KJV
অর্থাৎ শত্রুদের সকল পুরুষ শীশু ও নারীদের হত্যার আদেশ দিচ্ছে বাইবেল কিন্তু তাদের মেয়ে শিশূদেরকে নিজের জন্য রেখে দিতে বলেছে। কি অমানবিক ও জঘন্য আদেশ বাইবেলের।
অনেক খ্রিষ্টানরা আবার এখানে দাবি করে বসতে পারে যে, মেয়ে শিশূ নিজের জন্য রাখা মানেই সেক্স এর জন্য রাখা নয়, বরং এর মানে তাদের ভরনপোষন এর ভার নেয়া। তবে এই দাবি এখানেই নস্যাত হয়ে যায়, কারন বাইবেল যদি শীশুদের সুরক্ষার জন্য ওই শ্লোক লিখে থাকে, তবে পুরুষ শিশুদের ক্ষেত্রেও একি আদেশ দিত। কিন্তু আমরা প্রথম লাইনে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি সকল পুরুষ শিশুদেরকে হত্যার আদেশ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ নিঃসন্দেহে মেয়ে শিশুদের ভরনপোষন বা নিরাপত্তার জন্য বাইবেল এই কথা বলেনি বরং তাদের দ্বারা যৌনলিপ্সা বা যেকোন প্রকার লিপ্সা চরিতার্থের অনুমতি প্রদান করেছে বাইবেল।
মাতা মেরীর নাম আমরা নিশ্চয়ই শুনেছি। জানেন কি তার বিয়ে হয়েছিল কত বছর বয়সে ? তার বয়স ছিল ১২ থেকে ১৪ বছর যখন জোসেফের সাথে তার বিয়ে হয়েছিল। আর জোসেফের বয়স ছিল তখন ৯০ বছর। এবার খ্রিষ্টান বিদ্বেষিরা কি বলবে ? জোসেফকে কি তারা পেডোফিল বা শিশু ধর্ষক বলতে পারবে ?
নীচে ক্যাথলিক এনসাইক্লোপিডিয়া দেয়া হল, এখানে Marriage সেকশনটা পড়ুন
http://www.newadvent.org/cathen/08504a.htm

ঈহুদী ধর্মে শিশু বিয়েঃ
ঈহুদী ধর্মানুসারে নবী ঈসহাক ৪০ বছর বয়সে বিয়ে করেন মাত্র ৩ বছর বয়সী রেবকা কে।
এখন ইহুদিরা কি নবী ঈসহাক কে পেডোফিল বলতে পারবে ?
বিস্তারিতঃ
http://jewishworker.blogspot.com/2008/11/how-old-was-rivka-when-she-married.html
  

‘ইসলাম’ অর্থের খোঁজে?


‘ইসলাম’ অর্থের খোঁজে?
“ইসলাম” অর্থ কি? এর অর্থ কি শান্তি, অনেক নামধারী মুসলিমকে যেমনটা বলতে শোনা যায়?
নাকি এর অর্থ “জঙ্গিবাদ”? যা পশ্চিমা মিডিয়া ও এর বিশ্বব্যাপী দোসররা আমাদের বিশ্বাস করাতে উঠেপড়ে লেগেছে। আর এজন্য ব্যয় করছে কোটি কোটি ডলার! বিশ্বাস হচ্ছে না, তাই না? মাসজিদের হুজুররা  কি শুধুশুধু বলে বেড়ায় – ইহুদি খ্রিস্টানরা আমাদের পিছে লেগেছে?
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের Berkeley Center for Race and Gender ও কাউনসিল অন অ্যামেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (CAIR) কর্তৃক যৌথভাবে পরিচালিত সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী ‘ইসলামোফোবিয়া’ অর্থাৎ ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিদ্বেষ ছড়াতে নিয়োজিত গোষ্ঠিসমূহকে ২০০৮ থেকে ২০১১ সালের মাঝে অনুদান প্রদান করা হয়েছে ২০৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশী অর্থ !! (1)
ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় যে, ব্রিটেনের মুসলিম সম্প্রদায়কে নিয়ে মূলধারার মিডিয়ার প্রচারণা মুসলিমদের বিরুদ্ধে শত্রুIssভাবাপন্ন পরিবেশ তৈরীতে অবদান রেখে চলছে … (2)
কিন্তু এরপরও ইসলাম বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম। (3) ওয়াশিংটন ভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টার কর্তৃক পরিচালিত প্রায় ছয় বছর ব্যাপী চলমান গবেষণার ফল এই শতকের মাঝেই বিশ্বের প্রধান ধর্ম হবে ইসলাম। (4)
অনেকে বলতে চান এই বৃদ্ধির জন্য দায়ী শুধু “বায়োলজিক্যাল গ্রোথ” বা অধিক জন্মহার !! (5) এটা একটি কারণ ঠিকই। তবে তারা সুকৌশলে এড়িয়ে যেতে চান যে শুধু জন্মহার নয়, বরং অন্য ধর্ম বা নাস্তিকতা থেকে ইসলামে আসা এর অন্যতম কারণ। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ নারী !! (6)
তবে কেন এই প্রত্যাবর্তন ?
“ইসলাম” শব্দটির উৎস আরবি মূলশব্দ (সিন লাম মিম) (যার অর্থ আত্মসমর্পন, শান্তি, নিরাপত্তা ইত্যাদি)। প্রাচীন আরবি ভাষার প্রখ্যাত অভিধান লিসানুল্‌ আ’রব অনুযায়ী, “ইসলাম” এর শাব্দিক অর্থ “ইস্‌তিস্‌লাম্‌” অর্থাৎ আত্মসমর্পন করা, অনুগত হওয়া ইত্যাদি। (7)
সামগ্রিকভাবে ইসলাম হল, জীবনের সকল ক্ষেত্রে স্রষ্টার ইচ্ছার কাছে পরিপূর্ণ রূপে আত্মসমর্পন করে শান্তি অর্জন করা। ইসলাম কোন জন্মগত বা বংশগত পরিচয়ের নাম নয়, বরং এর ভিত্তি আদর্শে ও কর্ম। অর্থাৎ ইসলামকে কেবল ধর্ম বলা সম্পূর্ণ ভুল। এটি একটি জীবনব্যবস্থা, একটি সংবিধান, একটি লাইফস্টাইল, একটি ওয়ার্ল্ডভিউ। ভাবতে অবাক লাগে, অনেক অমুসলিম গবেষক ইসলামের সঠিক অর্থ বুঝতে পেরেছেন যা বহু মুসলিম দাবিকারীও পারে নি !! (8)
সুতরাং ইসলামকে বুঝতে হলে আমাদের তিনটি বিষয় সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখতে হবে-
১। স্রষ্টা আছেন তো ? কিভাবে জানব তিনি আছেন কিনা ? তার বৈশিষ্ট্যই বা কি ?
২। তার ইচ্ছা কি ? কিভাবে তার ইচ্ছা আমরা জানতে পারি ?
৩। আর কিভাবে তাঁর ইচ্ছার কাছে পরিপূর্ণভাবে আত্মসমর্পন করে শান্তি অর্জন করা যায় ?
তথ্যসূত্র:
(1) Hamila Kazem, Funding Islamophobia: $206m went to promoting ‘hatred’ of American Muslims. The Gurdian, 20 Jun 2016. Available at: https://www.theguardian.com/us-news/2016/jun/20/islamophobia-funding-cair-berkeley-report
(2) Miqdaad Versi, Why the British media is responsible for the rise in Islamophobia in Britain. The Independent, 4 April 2016. Availabe at: https://www.independent.co.uk/voices/why-the-british-media-is-responsible-for-the-rise-in-islamophobia-in-britain-a6967546.html
(3) Guinness World Records 2003; p. 142 (https://tinyurl.com/mz99w5g)
(4) Nadia Whitehead, A Religious Forecast For 2050: Atheism Is Down, Islam Is Rising. NPR, December 25, 2015. Available at: https://www.npr.org/sections/goatsandsoda/2015/12/25/460797744/a-religious-forecast-for-2050-atheism-is-down-islam-is-rising
(5) The Future of World Religions: Population Growth Projections, 2010-2050. Available at: http://www.pewforum.org/2015/04/02/religious-projections-2010-2050
(6) Why ARE so many modern British career women converting to Islam? The Daily Mail, 28 October 2010. Available at: http://www.dailymail.co.uk/femail/article-1324039/Like-Lauren-Booth-ARE-modern-British-career-women-converting-Islam.html
Jack Doyle, How 100,000 Britons have chosen to become Muslim… and average convert is 27-year-old white woman. The Daily Mail, 5 January 2011. Available at: http://www.dailymail.co.uk/news/article-1343954/100-000-Islam-converts-living-UK-White-women-keen-embrace-Muslim-faith.html
(7) Ibn Manzur, Lisanul A’rab; vol. 7; p. 243 (Al Maktabatul Islamiyyah Online); Lane’s Arabic-English Lexicon; vol 4, p. 1413 (Beirut, Librairie Du Liban, 1968)

(8) Britannica Encyclopedia of World’s Religion; p. 515 (2006 by Encyclopedia Britannica Inc.); Karen Armstrong, Islam A Short History; p. 05 (New york, Modern Library, Paperback Edition 2002); John L. Esposito, Islam: The Straight Path; p. 69 (Oxford University Press, Edition: 2, Illustrated, reissue, 199

কোরান কি সঠিকভাবে সংরক্ষন করা হয়েছে?

কোরান কি সঠিকভাবে সংরক্ষন করা হয়েছে পর্ব-১ কি যেন বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এটা কি আলোচনা নাকি সমালোচনা ঠিক বুঝি উঠতে পারছিলাম না। আমরা উপ...